পরিমাপ যন্ত্রটি কার হাতে? কে নির্ণয় করবে নারীর পরিমিতি বা অপরিমিতি? সে কাজটি কি পুরুষের? পুরুষই কি তবে সমাজ-নিয়ন্তা? পুরুষ-আধিপত্যময় সমাজ নারীকে পদে পদে চরম অপমান করে। অধিকাংশ পুরুষই ভাবে নারী ভোগের বস্তু। ধর্ম নারীকে পুরুষের দাসী বানিয়েছে। অপমানের বোঝা বইতে বইতে নারী একসময় আবিষ্কার করে, তার বুকের ভেতর জমে উঠেছে দুঃখ-যন্ত্রণার পাহাড়। সেই পাহাড় দু'হাতে ঠেলতে ঠেলতে নারী আজ ক্লান্ত-বিমুখ। কিন্তু এখানেই কারও জীবনের গল্প শেষ হতে পারে না। লেখিকা বিশ্বাস করেন, স্বপ্ন দেখেন, নারী অগ্নি হয়ে উঠুক। পালটা আঘাত করুক এই পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত সমাজের বুকে। যা কিছু চরম, তার সঙ্গে চরমপন্থী হয়েই লড়াই করুক নারী। লক্ষ্মী মেয়ে এবং অনুগৃহীত হয়ে থাকার দিন শেষ হোক। নারীর দুঃসহ দুঃখ-যন্ত্রণার পাথর দিয়ে তৈরি হোক মুক্তির ও যুক্তির পথ। তসলিমা নাসরিন তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মতো এই বইয়েও কামনা করেছেন, 'নারী মানুষ- এই হোক নারীর প্রথম ও শেষ পরিচয়।'
বাংলাদেশে ১৯৯৪-এ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এই বই। কলামগুলির রচনাকাল ১৯৯২-৯৩। নির্বাসিত জীবন শুরু হওয়ার পর লেখিকার আরও কিছু কিছু কলাম বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকায় বেরোয়। 'ছোট ছোট দুঃখ কথা' বইটির লেখাগুলোর সঙ্গে পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত কিছু রচনা নিয়েই এই বই।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""