শহর কলকাতার ভিতরে, অথচ এই শহরের চেনা নাগরিকতার ছন্দ থেকে সে একটু দূরেই সরে রয়েছে বলে মনে হয়। খিদিরপুর এমনই জনপদ, যার ইতিহাস ঘাঁটতে বসলে এক ক্যালাইডোস্কোপিক বর্ণালির ছটা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানি বোমার আঘাত খিদিরপুর সহ্য করেছে অনেক ধাক্কা। কিন্তু ইতিহাসের সেই সব রণ-রক্তের পাশাপাশি এই জনপদেই গুনগুনিয়ে উঠেছে ঠুমরির সুর, কথকের ঘুঙুর-নিক্কণ। রাজ্যচ্যুত নবাব ওয়াজেদ আলি শাহর সূত্র ধরে এই জনপদেই ঢুকে পড়ে লখনৌভি আতরের ঘ্রাণ। কিন্তু সেটাই কি খিদিরপুরের একমাত্র চরিত্র? নবাব-কবিতীর্থ-বন্দর পার করে এ জনপদ তো মধ্যবিত্ত বাঙালির পাড়াও! কেমন ছিল সেই জীবনছাঁদ? কখনও ইতিহাসের মহাফেজখানা থেকে, কখনও বা ব্যক্তিগত স্মৃতি মন্থন করে লেখক তুলে এনেছেন জানা-অজানার বাইরের এক 'ধূসর' খিদিরপুরের গল্পকেও। সেখানেই দেখা মিলতে পারে সেই জনপদের অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সমাজের সঙ্গে। গওহর জান বা মালকা জানের গানের সঙ্গে মিশে যেতে পারে রবীন্দ্রসঙ্গীতের কলিও। স্মৃতি-বিস্মৃতি-ইতিহাস, বলা আর না-বলা কথা, মনে রাখা আর ভুলে যাওয়ার মাঝখানের এক ছায়াময় গলি দিয়ে যেন যাত্রা করে এই বই। নিবন্ধের নৈর্ব্যক্তিকতা আর আত্মমগ্নতার ব্যক্তিগত পরিসর একাকার এই বইয়ের এক ডজন লেখায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""