বহুচর্চিত, বহুশ্রুত তাঁর জীবন। তবু সেই মহাজীবনের মূলসূত্রগুলি অনুসরণ করে এ উপন্যাস তার মায়াময় ভাষা ও ভাবনার ভিতর পৌঁছাতে চেয়েছে এক অন্য নির্জনতায়। যে নির্জনতার বুকে তিনি নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করেছেন- কে প্রভু, কোথায় তাঁর প্রকৃত আশ্রয়! এই প্রশ্ন, বলা বাহুল্য, গাঁধীকে ঘুমোতে দেয়নি! পিতার মৃত্যুর পর কখনও মা, কস্তুরবা, বড়দাদা, কখনও নিজের সন্তান, বন্ধুদের কাছে দুটি হাত বাড়িয়ে তিনি শিশুর মতো ছুটে গিয়েছেন। প্রকৃতি ও পৃথিবীর সঙ্গে চিরকাল সহজ, স্বাভাবিক এবং অবিচ্ছেদ্য থাকতে চেয়েছেন মহাত্মা। সাফল্যের উদযাপনে হয়েছেন হ্লাদিত আর প্রতিটি ব্যর্থতাকে গ্রহণ করেছেন জীবনের আশ্চর্য শিক্ষা হিসেবে। ভয়ংকর অতিমারী থেকে নিকৃষ্ট বর্ণবিদ্বেষ- নিখিলের সমূহ বিপর্যয় যে শুধুমাত্র সেবা, সত্য আর অহিংসা দিয়েই মানুষ জয় করতে পারে, নিজের অক্লান্ত কর্মধারায় তিনি তা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আমাদের। খাদ্যাভ্যাস-ব্রহ্মচর্য-অহিংসা, সত্যের অবিচল নীতিতে মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর মত ঠিক না ভুল, সেই সরলীকরণের সাধারণ পথে না গিয়ে এ রচনা গভীরভাবে উপনীত হতে চেয়েছে তাঁরই পরম আরাধ্য আশ্রয়ের কাছে। সেই আশ্রয়ের নাম: ভারতবর্ষ। নিজের দেশের মাটি-জল-হাওয়া চিনে নেওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা তাই শুনতে পেয়েছি অমোঘ মহাধ্বনি- 'প্রভ আমার প্রিয়'।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""