গুপ্তচরবৃত্তির লিখিত ইতিহাস প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের। প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া, চীন হয়ে ভারত। সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সেই ইতিহাস। চীনের 'সান য়ু'-এর লিখিত 'আর্ট অফ ওয়্যার', মিশরের মন্দিরগাত্রের শিলালেখ থেকে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র। মধ্যযুগের সময়টায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিমুখ অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। প্রাচীন যুগে যেখানে গুপ্তচরবৃত্তির মূল উদ্দেশ ছিল দ্রুত সংবাদ পরিবহন ও নিজের রাজার যুদ্ধজয়, সেখানে মধ্যযুগের গুপ্তচরবৃত্তির লক্ষ্য ছিল অন্তর্ঘাত চিহ্নিতকরণ ও রাজার সিংহাসন রক্ষা। ফলে মধ্যযুগের সূচনা লগ্নের বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য, আরব খালিফা সাম্রাজ্য থেকে শেষের দিকের তুর্কি সাম্রাজ্যের সর্বত্র গুপ্তচরবৃত্তি তার বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগ হারিয়ে মোটাদাগের সিংহাসন রক্ষার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। তবে মধ্যযুগেই বাইজান্টানে সেই অর্থে প্রথম বার ব্যবসায়িক স্বার্থে গুপ্তচরবৃত্তির প্রয়োগ হয়েছিল যখন দুইজন সন্ন্যাসী চীন দেশ থেকে চুরি করে রেশম পোকা নিয়ে বাইজেন্টাইন পৌঁছেছিলেন। অন্যদিকে আরব খালিফারা তাঁদের গুপ্তচরদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষ বা আত্মীয়দের উপরে নজর রাখতে ব্যবহার করতেন। এমনকি তাঁরা নিজেদের সিংহারোহণকে ইসলামী আইন সম্মত বৈধতাদান করতে গুপ্তচর দলের মাধ্যমে ভুয়ো খবর (প্রোপাগ্যান্ডা) প্রচার করাতেন।
আধুনিক যুগে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রথম কয়েক শতক গুপ্তচরবৃত্তি সারাপৃথিবী ব্যাপী রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ক্ষীণতর হয়ে পড়ে। তা অনেক অর্থেই ইউরোপ ও এশিয়ার যে সমস্ত অঞ্চলে দেশীয় শাসকরা শক্তিধর ছিলেন সেই অঞ্চল
বা দেশগুলিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বিদেশি শাসকরা নতুন উপনিবেশে গুপ্তচরবৃত্তির প্রয়োজন অনুভব করতেন না। অন্যদিকে সেই দেশের শাসকদের সেনাদল ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে বিদেশি শাসক নিয়ন্ত্রণ করার কারণে তাঁদের পক্ষেও নিজস্ব গুপ্তচরদল আর রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি শাসকরা রাজনৈতিক কারণে পুলিশি গোয়েন্দা ব্যবস্থার সূচনা শুরু করেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""