নিম্নবিত্ত, সাধারণ, গড়পড়তা, কিংবা তারও তলায় যে-সমস্যাজর্জরিত তরুণ জীবন, যেখানে আশা, ভরসা, উচ্চাকাঙক্ষা, আদর্শ, অতএব সৌহার্দও নেই, থাকবার কথা নয়। আছে শুধু কোনওক্রমে টিকে থাকা, উপার্জনের জন্য হয় রাজনীতির খোসামোদ, নয় সমাজবিরোধীদের খাতায় নাম লেখানো অথবা এই দুইয়ের মধ্যে কোনওমতে গা বাঁচানো প্রাণপণ, সেই জীবনের কথাই বলছে 'তিমির বিদার'। বলছে লেখকের ভাষায় নয়, এইসব-তরুণদেরই জীবন্ত, কিছুটা বা অপ-ভাষায়। এলাকাটির চরিত্র ঠিক ভারতবর্ষের মতো, বা পুরনো কলকাতার মতো। অতি ধনী, অতি দরিদ্র থাকে কাছাকাছি, থাকে পূর্ববঙ্গীয় ও পশ্চিমবঙ্গীয়, হিন্দু ও মুসলমান, ডান দল ও বাম দল' শিল্পপতির প্রাসাদের পেছনেই এখানে এক সময়ের জবরদখল কলোনির ঘিঞ্জি নকশা, তার হাঁটা পথের মধ্যেই আবার মিশ্র চরিত্রের বস্তি। এইসব বিপ্রতীপে মিলে এখানে এক জটিল সহাবস্থান যা কলকাতার মতো পুরনো শহরের প্রকৃত বাস্তব। প্রাইভেট কার, ট্যাকসি, অটো, সাইকেল রিকশা, উপছে-পড়া বাজার এই সমস্ত মিলিয়ে এক বিচিত্র পরিবেশ, যাকে একেবারে 'দূষিত' বলা যাচ্ছে না।. এখানেই থাকে পাগলা দীপু। যার হঠিত-হকার বাবা আত্মহত্যা করে তার অঙ্কে এম.এস-সি পড়া খতম করে দিয়ে গেছেন। থাকে রুপু, পূর্ববঙ্গীয় জবরদখলদারদের তৃতীয় প্রজন্ম, একটা মোটামুটি বি.কম, ডিগ্রি নিয়ে ক্রমাগত উপার্জনের রাস্তা-খুঁজে-যাওয়া আর পাঁচটা কলকাতা-তরুণের থেকে যাকে আলাদা করা যায় না। থাকে মুক্তা মণিমালা হাসিনারা যারা, আলোর মুখ দেখবার জন্য বদ্ধপরিকর। আপাতলঘুতার আড়ালে এদের মধ্যে আছে এক ধরনের সন্ধিৎসা, গভীরতর কোনও স্তর, নিজেকে অতিক্রম করার তাগিদ যা মানুষকে মানুষ বলে শনাক্ত করে। এই দুরূহ অবচেতন অভিযান নিয়ে একেবারে সমসময়ের উপাখ্যান 'তিমির বিদার'।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""