জীবজন্তু-পশুপাখিকে আমাদের প্রকৃতির বাস্তব জগৎ থেকে কল্পনার মনোজগতে নিয়ে এসেছেন কাহিনিকার। তখন তাদের ক্রিয়াকলাপ হয়ে উঠেছে মানুষের মতন, মানুষের মতো তারা কথা বলেছে, চিন্তা করেছে, গল্পের নায়ক হয়ে উঠেছে। আমাদের প্রাচীন পঞ্চতন্ত্র আর হিতোপদেশের পাতায়, বিদেশে 'ঈসপস ফেবল' (বাংলায়-অনূদিত কথামালা) আর নানা উপকথার গল্পে পশুপাখিরা মানুষের মতো জীবন নাট্যে কুশীলব হয়ে আমাদের নীতিকথা শিখিয়েছে। কাহিনি থেকে তাদের রূপকল্প শিল্পীর তুলিতে বর্ণময় হয়ে আমাদের শৈশবের প্রিয় পড়ার সাথি হয়ে উঠেছে।
চিত্র কাহিনি বা কমিকস্ স্ট্রিপে এদের আবির্ভাব হয়েছিল আরও অনেক কাল পরে, ওয়াল্ট ডিজনি নামটা আমাদের সকলের চেনা। ১৯২৭ সালে 'অসওয়ার্ল্ড' নাম দিয়ে এক খরগোশকে পোশাক-আশাক পরিয়ে এঁকে ফেললেন কার্টুন আর সেই কার্টুন চলমান হয়ে উঠল, যখন তাকে নিয়ে ডিজনি বানালেন অ্যানিমেশন ফিল্ম 'অসওয়ার্ল্ড দি লাকি র্যাবিট'। সেই ছবির স্বত্ব পেলেন না বলে ১৯২৮ সালে ডিজনি বানালেন অমর চরিত্র 'মিকি মাউস', যে ইঁদুর পরে বিশ্ববিখ্যাত হয়ে উঠেছিল, ফিরে গিয়েছিল ডিজনির ভাগ্য। মিকি'র পর ডোনাল্ড ডাক, আংকেল ক্রুজ (ডোনাল্ডের ধনকুবের কাকা) সঙ্গে লুই, হুই আর ডিউই তিন খুদে ভাইপো। কাল্পনিক এই হংস পরিবারের পর ডিজনি তৈরি করেছেন না-মানুষ পাত্রপাত্রীদের বর্ণময় জগৎ- একাদিক্রমে কমিকসের পাতায় আর রুপোলি পর্দায়। আজকের দুনিয়ার শিশুদের প্রিয় না-মানুষ কুশীলবদের দেখা গেছে কমিকস্ আর অ্যানিমেশন ফিল্মে। এসেছে বাগস বানি, টম এন্ড জেরি, ডাম্বো, পর্কিপিগ, ড্যাফি ডাক, রজার র্যাবিট, উইনি দি পুচ, ফেলিক্স দি ক্যাট, গুফি, পিঙ্ক প্যানথার, উডি উডপেকার আরও কত চরিত্র। বাংলা কমিকসের পাতায় জীবজগৎ থেকে ১৯৩৭ সাল নাগাদ প্রতিভাধর কার্টুনিস্ট প্রফুল্ল চন্দ্র লাহিড়ী নিয়ে এলেন 'শেয়াল পণ্ডিত'। এর আগে ১৯৩৫ সালে ইংরাজি 'অমৃতবাজার' পত্রিকার পাতায় শুরু করেন 'খুড়ো'-বাঙালি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের আটপৌরে প্রবীণ মানুষ- যার সঙ্গে পাঠকেরা তাঁদের দৈনিক ক্রিয়াকর্মের মিল খুঁজে পেতেন। দীর্ঘদিন খুড়োর ক্রিয়াকলাপ চলার ফাঁকে, ছোটোদের জন্য কিছু করার মানসিকতা থেকে বাংলা দৈনিক যুগান্তরের ছোটোদের পাতা 'পাততাড়ি'তে তিনি কাফী খাঁ নামে করতে শুরু করলেন এই 'শেয়াল পণ্ডিত'। বিদেশি কমিকসের জীবজন্তুর মজাদার কাণ্ডকারখানা নিশ্চয়ই তাঁকে উৎসাহিত করেছিল।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""