১৫ জুন ২০০৮ কৌশিকদার শান্তিনিকেতনের বাড়িতে অত্যন্ত ঘরোয়াভাবে পালিত হয় তাঁর নকাই বছরের জন্মদিন। এই উপলক্ষে দিল্লি থেকে সপরিবারে এসেছিলেন তাঁর পুত্র। জড়ো হয়েছিলেন কলাভবনের কয়েকজন প্রক্তানী আর কিছু আশ্রমিক-যাঁরা কৌশিকদা-পুষ্পাদির খুব কাছের মানুষ। এঁদের মধ্যে ছিলেন ননীদা, শর্বরীদা-অজন্তাদি, কিরণদি, নন্দদা-ফাল্গুনীদি, পঙ্কজ-পম্পা, ঋষি-সীমা আর সস্ত্রীক শিবকুমার ও আরও অনেকে। ক্রমশ ঘরোয়া আড্ডায় গল্পে জমে উঠেছিল জন্মদিনের আসর। পুষ্পাদি একটি দক্ষিণী শাড়িতে নিজেকে সাজিয়ে হাসিমুখে কিছুটা ব্যস্ত হয়ে সকলকে দেখভালের সাধ্যমতো চেষ্টা করছিলেন। আর কৌশিকদা-যিনি সদ্য জীবনের নব্বই বছর পূর্ণ করলেন, তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ হাসিমুখে বসে ছিলেন। সকলের সামনে একটু যেন লজ্জিত এই নেপথ্যচারী মানুষটি।
সেইদিনই মনে হল শিল্পকলার সুদীর্ঘ ইতিহাস ছুঁয়ে-থাকা এই মানুষটির ছড়ানো লেখাগুলো একত্র হওয়া বিশেষ জরুরি। প্রথমে বাংলা দিয়েই শুরু করা যাক, যা সংখ্যায় তুলনায় কম। পত্রিকায় মুদ্রিত লেখা ছাড়াও কিছু আছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে, কোনো বিশেষ প্রদর্শনীয় উদ্বোধন, স্মরণসভায় অথবা শান্তিনিকেতন মন্দিরের ভাষণ হিসেবে, একদা যা পাঠ করেছেন তিনি। কিছু লেখা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও যা আছে, সেগুলো জড়ো করে দুই মলাটের মধ্যে বেঁধে ফেলার প্রসঙ্গ তুলতে, তিনি কিছুটা উদাসভাবে বললেন 'এখন অন্যরকমের সময়। ওই সব পুরোনো দিনের কথায় কারও কি আগ্রহ থাকবে। থাক ওসব।' একটু জোর করতে নির্লিপ্তভাবে রাজি হলেন। এইভাবে কাজ শুরু হল।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""