উনিশ শতকের শেষপাদ থেকে বিংশ শতকের গোড়ার তিন দশক ছিল তাঁর আয়ুষ্কাল। এই সামান্য সময় পরিসরে তিনি লিখে গিয়েছেন বহু উপন্যাস, গল্প, কবিতা। সরসীবালা বসুর নামটি আজ হয়তো বঙ্গের তথাকথিত আলোকপ্রাপ্তির যুগের প্রবল পুরুষতন্ত্রের দাপটে আবছায়া। কিন্তু তাঁর রচনা তো রয়ে গিয়েছে! রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের কালের নারী হয়েও তিনি পুরুষ-নির্ধারিত সাহিত্য পরিধিকে নীরবে যে মেনে নেননি, তার প্রমাণ রয়েছে রচনাসমগ্রের দ্বিতীয় খণ্ডে।
এই খণ্ডে সংকলিত হয়েছে 'রেখা', 'শুকতারা', 'মনোরমা' উপন্যাস, গল্প সংকলন 'শ্রেয়সী' এবং কাব্য সংকলন 'পুষ্পহার'। এই লিখনগুলি নিছক 'কালের দলিল' মাত্র নয়। তারা প্রত্যেকেই বহন করছে সেই সময়ের নারীচৈতন্যের বাত্ময় প্রকাশ এবং অবশ্যই সাহিত্যবোধ। যে অর্থে সরসীবালা সমাজকে দেখেছেন, তার ভাষ্য লিখেছেন তাঁর কথাসাহিত্যে বা কাব্যে, তা আজ মানবীচেতনাবাদের শিকড়ে অবস্থানরত 'নারী নজর' টিকে সেই সময়েও যে এড়িয়ে যায়নি, এই খণ্ডের লিখনগুলি পড়তে বসলেই বোঝা সম্ভব। শুধু গবেষণার স্বার্থে ফিরে দেখা নয়, সরসীবালা আজও যে কতখানি প্রাসঙ্গিক, তা বোঝা যায় এই রচনাসমূহের মধ্যেকার বীথিপথ ধরে কিছুদূর হাঁটলেই।