এই গ্রন্থ রচিত হয়েছিল গত শতকের সাত থেকে আটের দশকের মধ্যে। লেখা যখন শুরু হয়, লেখক তখন আশি বছরে পদার্পন করছেন। সে দিক থেকে দেখলে এই বই বিংশ শতকের একটি বৃহৎ কালখণ্ডের কুলুজি। যে আখ্যানের কেন্দ্রে রয়েছেন লেখক। এবং যে কোনও আত্মস্মৃতির মতোই তাঁকে ঘিরে অগণিত মানুষের মিছিল। পরাধীন ভারতের অবিভক্ত বাংলা থেকে বিভাজিত বঙ্গভূমি লেখক দেখেছেন। সাক্ষী থেকেছেন এমন সব ঘটনাবলির, যাকে পরে আমরা 'ইতিহাস' বলে জেনেছি। কিন্তু 'মহাইতিহাস'-এর সঙ্গে 'অণু-ইতিহাস' যেখানে মিলিত হয়, অর্থাৎ ব্যক্তির নিজস্ব অনুভূতি যখন সমসময়ের দলিলকে ভাঁজে ভাঁজে খুলে নিতে চায়, তখন কিছু মুশকিল দেখা দেয়।
যেমন এই বইতে রবীন্দ্রকাব্যের বেশ গোলমাল পাঠান্তরের রয়েছে, তেমনই রয়েছে কালের ঘূর্ণিতে হারিয়ে যাওয়া বিবিধ বইয়ের কথা। রয়েছে 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্তরঙ্গ আড্ডার সরস বর্ণনা। সেকালের কলেজজীবন থেকে ভূতেদের বংশপঞ্জি-এক বিচিত্র অভিযাত্রার আয়োজন এই বইতে হাজির।
আর সেই রসঘন যাত্রাপথে দেখা হয়ে যায় দিলীপকুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, এমনকি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গেও। অধ্যাপকের জীবিকা গ্রহণের কারণে দেখা মেলে সেকালের শিক্ষায়তনগুলির সঙ্গে। অবিভক্ত ভারত, তার বিভিন্ন জনপদ, মানুষ ও তাদের জীবনছন্দকে লেখক ধরে রেখে গিয়েছিলেন কাগজে কলমে। প্রয়াণের বহু পরে সেই লেখা উদ্ধার করে এই প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হল। আত্মজীবনীর পাঠক থেকে শুরু করে সাহিত্যানুরাগী অথবা নিছক অতীতবিলাসীর কাছে এ বই যেন একঝলক ল্যাভেন্ডারের উন্মনমাখা বাতাস, যা হারানো দিনের প্রতি উচাটনকে জাগিয়ে তোলে।