হিমানীশ গোস্বামীর প্রধানতম পরিচয় রসসাহিত্যিক হিসাবেই। হিমানীশবাবুর সাহিত্য 'রস' ব্যাপারটা একটা আলাদা কিসিমেরই ছিল তাঁর সমকালীনদের চাইতে। হিমানীশবাবুর এই স্মৃতিকথায় কখনও তির্যক ব্যঙ্গের খোঁচা হয়ে, কখনও বা নিখাদ হিউমর হয়েই উঠে এসেছে তাঁর কৈশোর-স্মৃতি। অবিভক্ত বাংলার গ্রামজীবনের অন্তঃসলিলা রসধারাকেই তিনি এ রচনায় বারংবার (তাঁর নিজের লজে 'তেরোংবার') তুলে এনেছেন।
শুধু আত্মকৌতুক নয়, সমকালীন অগ্রজ,
সমবয়স্ক এবং অনুজদের নিয়ে তাঁর কৌতুকের পরিধি ব্যাপৃত রয়েছে। গ্রামস্মৃতি মানেই যে তাতে শুধু মেদুরতা ছেয়ে থাকবে, এই সত্যে হিমানীশবাবু বিশ্বাসী ছিলেন না। স্মৃতি যে সততই সুখের এবং সেই 'সুখ'-টির নাম অনেকাংশেই কৌতুক, তা এই রচনা পড়তে বসে মালুম হয়। সে কৌতুকের রসে স্নাত হয়েছেন মানুষজন থেকে পোকামাকড় পর্যন্ত। এমনকী, রামধনু বা চাঁদের মতো সেলেশ্চিয়াল বিষয়ও রসাবিষ্ট হওয়া থেকে বাদ পড়েনি। জীবিত থাকলে নির্ঘাৎ বলতেন, ও লেখা 'পৌনে অ-প্রকাশিত'। অর্থাৎ এ রচনার সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছিল একটি পত্রিকায়। কিন্তু লেখক তাঁর পাণ্ডুলিপি সম্পূর্ণ করেই গিয়েছিলেন। এই প্রথম দুই মলাটে ধরা থাকল সমগ্র লিখনটি।