বাংলার গ্রামীণ নারী যুমুখ মুখ থরে কাজ করে চলেছেন ঘরে এবং বাইরে; তাই পুরুষের সঙ্গে মিশেছেন সহজ সাবর্ণীলতায়, পর্দাকে উপেক্ষা করে। পুরুষসদের সে সব অভিজ্ঞতার কথা তাঁরা ধরে রেখেছেন তাঁদের নিজস্ব গানে। তেমনই ৮০০-এর বেশি গানের ভিত্তিতে রচিত এই বই 'মেয়েদের পুরুষকথা'। এখানে বাবা, কাকা, স্বামী, শ্বশুরের সমান্তরালে রয়েছেন পরিবারের বাইরের পরিসরের শতাধিক পুরুষ।
দারোগা-পুলিশ থেকে ডাক্তার-বদ্যি, চোর-ডাকাত থেকে পাগল-বাউন্ডুলে, কামার-কুমোর থেকে পঞ্চায়েত মেম্বার বা সরকারি বাবু, বাদ পড়েন না কেউই। সম্পর্কের টানাপোড়েনের এ সব গানে রয়েছে অপ্রাপ্তির বেদনা, বঞ্চনা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, কখনও আবার বাঙ্গ বা নিছক কৌতুকের অম্ল-কষায় স্বাদ। বাংলার মেয়েদের মৌখিক গীতি-ঐতিহ্যকে বিষয়ভিত্তিক পর্বে ভাগ করে এই গ্রন্থে বহুকৌণিক দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন লেখক সমাজবাস্তবতার গলি, কানাগলি। এই বিশদ অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, মেয়েরা কোনও দিনই 'পিঞ্জরের শুকপাখি' ছিলেন না, ছিলেন না 'অবলা'-ও। পুরুষ পৃথিবীর নানা অনাচার, বৈষম্য তাঁদের যেমন গান বাঁধতে প্রাণিত করেছে, তেমনই প্রেমে-বিরহে, সাংসারিকতার খুঁটিনাটিতেও তাঁরা গানকে বেছে নিয়েছেন বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন হিসেবে। বাংলার মেয়েদের গানে পুরুষকথাকে খুঁজে আনতে যে শ্রম লেখক করেছেন, তা সত্যিই বিরল কাজ।