কুরোসাওয়ার চলচ্চিত্র যেন মানবজীবনের অন্তর্লোক থেকে উঠে-আসা এক অনন্ত সুর-কখনো ঝড়, কখনো নীরব বৃষ্টি।
রশোমন-এ তিনি সত্যের বহুস্তরিত মুখ উন্মোচন করেন; আলো ও ছায়ার মাঝে মানুষের বিবেক কত সহজেই পথভ্রষ্ট, তারই অনুপম রূপক ধ্বনিত। দ্য ইডিয়ট-এ নিষ্কলুষতার ট্র্যাজেডি বরফের নীরবতার মতো বিস্তৃত হয়ে থাকে, যেন মানবকলুষতার বিপরীতে শেষ আলোটি এখনও নিভে যায়নি। ইকিরু আমাদের নিয়ে যায় জীবনের গভীরতর অর্থের সন্ধানে-মৃত্যুর ছায়াতলে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ নিজের ভেতরকার দীপশিখাটি পুনরায় জ্বালিয়ে তোলে। থ্রোন অব ব্লাড ক্ষমতা, ভয় ও অবশ্যম্ভাবী পতনের মহাকাব্যিক প্রতিধ্বনি তোলে। ড্রিমস-এ স্বপ্ন হয়ে ওঠে শিল্পীর আত্মার রঙিন মানচিত্র-বাস্তবতা ও কল্পনার সীমানা স্নিগ্ধভাবে ঝাপসা হয়ে যায়। সর্বশেষ র্যাপসোডি ইন অগাস্ট শান্ত, বিষণ্ণ সুরে স্মরণ করায় যুদ্ধের ক্ষত, স্মৃতি ও ক্ষমার গভীর
মানবিক আবেদন।
কুরোসাওয়ার শিল্পকে নতুন আলোকে দেখার এক কাব্যিক দিগন্ত-মানুষ, তার সত্য, তার স্বপ্ন, আর তার অনিবার্য যাত্রার এক চিরন্তন প্রতিফলন।