সাউথ পার্কস্ট্রীট সেমেটারি, গ্রেভ নম্বর ১২৭৫, একটি বাচ্চা মেয়ের কবর।
জীবনকাল- ১৭৯৯ থেকে ১৮০৪। একটা সময়ে এই নির্দিষ্ট গ্রেভটা আমাকে বারবার টেনে নিয়ে যেত সেখানে। একটা বছর পাঁচেকের মেয়ে, আজ দুশো বছর ধরে একটা সিমেন্টের স্তূপাকৃতি ঘরের নিচে শুয়ে আছে। কেউ তাকে মনে রাখেনি, কেউ তাকে দেখতে আসে না। এমন কি তার একটা ছবি পর্যন্ত আর পৃথিবী খুঁজলে পাওয়া যাবে না। একটা মানুষের মৃত্যু মানে অসংখ্য গল্পের মৃত্যু। তার পুতুলের গল্প, সদ্য শেখা বর্ণমালার গল্প, এসব কাকে শোনায় সে এখন?
হারিয়ে যাওয়া অব্যক্ত গল্পের থেকে বেশি রহস্যময় মনে হয় আর কিছু নেই। এই বইতে রহস্যের সাগরেদ স্বরূপ অলৌকিক এবং গোয়েন্দাগিরি দুটো উপাদানই মজুত, তবুও 'তার চোখের তারায়' শুধু অলৌকিক-থ্রিলার উপন্যাস নয়। কিছু মৃত, হারিয়ে যাওয়া রহস্যময় প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান। সে রহস্য সমাধানে ঐতিহাসিক সময়কাল, প্রাচীন পুঁথিপত্র ও ধর্মতত্বের যে ব্যাখ্যা ব্যবহার হয়েছে তার কোনোটাই আমার মন গড়া নয়।
উপন্যাস লিখতে গিয়ে সব থেকে ভয়ানক কাজটা হল একঝাঁক পরস্পর-বিরোধী চরিত্রের শরীরে একা ঢুকে পড়া। ভাবুন একটি প্ল্যানচেটের মিডিয়ামের উপর একসঙ্গে অনেকগুলো আত্মা ভর করেছে। ক্ষণে ক্ষণে নানারকম গলায় কথা বলছে, নিজের প্রশ্নের নিজেই উত্তর দিচ্ছে, একসঙ্গে কাঁদছে, হাসছে, ভয় পাচ্ছে। এই উপন্যাস লিখতে গিয়ে তেমনই এক ভর হয়েছিল আমার। তবে প্ল্যানচেটের টেবিলে তো একা বসিনি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""