'কলকাতার স্ট্যাচু' বইটির নেপথ্যে রয়েছে লেখকের কয়েক দশকের শ্রম সংগ্রাম সাধনা। বাংলা ভাষায় শিল্পকলা নিয়ে লেখা বই বেশি নির্মাণ হয়নি। পাঠকের অনাগ্রহ প্রবল হলেও পাঠক-রুচি তৈরির প্রয়াসও তেমন দেখা যায়নি গ্রন্থজগতে।
কমল সরকার শিল্পকলা ও শিল্পস্রষ্টাদের নিয়ে যে কটি বই লিখেছেন সবগুলিই অমূল্য। কলকাতার তিনশো বছর উপলক্ষে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত 'কলকাতার স্ট্যাচু'। এই বিষয়টি নিয়ে বই হতে পারে তা জিজ্ঞাসু মন নিয়ে ভেবেছেন লেখক। প্রত্যেকটি স্ট্যাচু পর্যবেক্ষণ শুধু নয়, সেগুলির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সমস্ত ইতিহাস সংক্ষেপে অথচ আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরেছেন। নগরকে সুন্দর করার অঙ্গ আর কিছু ইতিহাসকে ধরে রাখার তাগিদে মূর্তি স্থাপন হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হবার বাইশ বছর পরে কিছু মূর্তি সরানো হয় সরকারি সিদ্ধান্তে। অনেকের স্মৃতিতে সেসব স্ট্যাচু রয়ে গেছে। যাঁরা সেগুলি দেখেননি এই বইটি তাঁদের অনেক অজানা ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করাবে।
প্রথম প্রকাশের পর সাতাশ বছর পেরিয়ে গেলেও এরমধ্যে যে-সব বিবরণ লিপিবদ্ধ, তা ইতিহাসের উপাদান। বইটি হাতে নিয়ে স্মৃতিতাড়িত হবেন কেউ কেউ, আবার কেউ ভাববেন মূর্তিনগরী কলকাতার সেদিনের সৌন্দর্য আর চলতি সময়ের ছবির সঙ্গে তফাত কতটা? এটি লেখকের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ-মেশানো কাজ। কালের সাক্ষী হিসেবে যে-সব স্ট্যাচু আমাদের মহানগরীর শ্রী-বর্ধন করেছে, তার মধ্যে কিছু আর দেখা যাবে না। চোখের আড়ালে চলে গেলেও মনের আড়ালে যে যায়নি, বরং স্মৃতির গভীরে ধরা রয়েছে-সে কথা বারবার মনে হবে 'কলকাতার স্ট্যাচু' হাতে নিলে। মনে হতে পারে এ নগরীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত মূর্তি দেখার আনন্দে কয়েকদিন ঘুরে বেড়ানোর। তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারে দিশারী ও প্রেরণাদায়ী এই গ্রন্থ। 'কলকাতার স্ট্যাচু'।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""