কলকাতা পত্রিকার প্রথম সংখ্যা হাতে নিয়ে এখনও অনুভব করতে পারি ১৯৬৯-এ মে মাসের সেই উত্তেজনা। বয়স তখন তেত্রিশ। আমেরিকা থেকে ফিরে নতুন করে আবিষ্কার করছি কলকাতাকে। কলকাতা তখন শুধু একটা শহর নয়, একটা আতশ কাচ, যার মধ্য দিয়ে বাংলার সত্তার ছড়ানো, ছিটকোনো আলো একত্রিত হয়ে সৃষ্টি করেছিল এক প্রজ্জ্বলন বিন্দু।
প্রথম সংখ্যার কভারে ছিলো প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিটের দৃশ্য। ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিপক্ষে আন্দোলনের সময় তোলা একদল ছেঁড়া জামা পরা বালক ও কিশোর ইট পাটকেল হাতে নেমেছে কোনো এক অজানা শক্তির প্রতিরোধে। মলাটের ভেতরের অংশে রাগের চেয়ে ভালোবাসাই বেশি প্রকাশ পেয়েছিল, গুরুগম্ভীর কাগজ ছিল না। কোনো তত্ত্ব কী মতবাদের ছিল না বাহন। ছিল পাতায় পাতায় নিহিত অনেক নতুন ভাবনার বীজ। ছিল কৌতূহল, আগ্রহ, তীব্রতা। প্রথম বর্ষে বেরিয়েছিল উনিশ শতকের নবজাগরণ বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত ধারণাগুলির প্রতি অজিতকুমার মিত্র-র ঢিলছোড়া প্রবন্ধ, শিবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকী গল্প, বাংলা ভাষায় লুইস বোর্গেসের হয়েছিল প্রথম আবির্ভাব। এক বছরের মধ্যে বেরিয়েছে বুদ্ধদেব বসুর যাট বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা, সত্যজিৎ রায় সংখ্যা, যাতে ছিল তাঁর, সম্ভবত, দীর্ঘতম সাক্ষাৎকার। এই উপলক্ষে সত্যজিৎ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন তাঁর নোটবই, ছবি, স্ক্রিপ্টের ঐশ্বর্য ভাণ্ডার। পত্রিকা প্রকাশের পরদিনই সকালে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এলেন। 'কৃত্তিবাস' সম্পাদক বললেন, 'গদ্য পদ্যের একটা সমান সমান জায়গা হল।' সে-যুগের পক্ষে যথেষ্ট টাকা দিয়ে গেলেন, বললেন, 'আমি আমার আজীবন সদস্য চাঁদা দিলাম।'
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""