বনগাঁ থেকে লুধিয়ানা পর্যন্ত আপামর জনগণ একসময় জ্যোতিবাবুর নামেই সিপিএমকে চিনতেন। অথচ দলের অন্দরে বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে তাঁকে কোণঠাসা হতে হয়েছে।
জয়প্রকাশ-আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারেও প্রমোদ দাশগুপ্ত ও জ্যোতিবাবুর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। জ্যোতিবাবু জয়প্রকাশের সঙ্গে অনেক সহজ শর্তে এগোতে রাজি ছিলেন, কিন্তু প্রমোদবাবুর মত ছিল অন্যরকম। ওই সময়ে কখনো-কখনো জ্যোতিবাবু কোনো বৈঠকে গিয়ে একরকম প্রস্তাব দিয়ে পরের বৈঠকেই তা থেকে সরে গিয়েছিলেন।
কমিউনিস্ট পার্টিতে ভাঙনের সময়ও জ্যোতিবাবুর মত ছিল অন্যরকম।
প্রাথমিকভাবে তিনি দলে ভাঙনের বিরোধী ছিলেন। এমন উদাহরণ আরও অনেক আছে।
যেমন সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে জ্যোতিবাবু যে পথ বাতলেছিলেন, সিপিএম তা গ্রহণ করলে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির ইতিহাস হয়তো অন্যরকমভাবে লেখা হত। এইভাবে জ্যোতিবাবু হয়তো কোণঠাসা হয়েছেন, কিন্তু দল ও সরকারের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব কখনও উপেক্ষা করা যায়নি। তাঁর মত পরাজিত হয়েছে, কিন্তু বরাবর তিনি সেনাপতি থেকে গিয়েছেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""