মানুষকে ভালোভাবে বাঁচতে হলে সহ্য করতে হয়। এই শেষ কথাটার মানে কি ঠিক বুঝতে পেরেছিল জ্যোতি? সেসব ভাবারও কি উপায় ছিল তার? সে শুধু জানতো আর পিছন ফিরে তাকাবার উপায় নেই। তাকে এখন সামনের দিকেই চলতে হবে। বস্তুত, দু-বছর আগে তার বাবা যখন দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন আঘাতে যে বিমূঢ়তা ছিল, এবার আর তা ছিল না। কলকাতার রাস্তায় প্রতিদিন যে-কটা দুর্ঘটনা হয়, কাগজের ভিতরের পাতায় ছাপা হয়ে একবেলাতেই বাসি হয়ে যায়। তার বাবার মৃত্যুটাও ছিল তেমনি। আচমকা এবং এক বেলাতেই শেষ হয়ে যাওয়া একটা ঘটনা। এই হলে ওই হয়, এমন করলে তেমন হবে, অথবা এটাই ঠিক হবে, ওটা হবে ভুল-এসব হিসেবি বিবেচনার কোনো সুযোগই ছিল না। কিন্তু এবারের আঘাতটা তেমন নয়। অনেকদিন ধরে প্রস্তুতি ছিল এবারে। প্রায় ছ-মাস ধরে প্রস্তুতি। ধীরে ধীরে একটা অনিবার্য ঘটনা ঘটার প্রতিটি মুহূর্ত জ্যোতি টের পেয়েছে। সে টের পাচ্ছিল মা তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এখন সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। এই দু-বছরে সে বুঝেছে সব বিচ্ছেদই মানুষকে সহ্য করতে হয় এবং সহ্য হয়েও যায়। এই বিচ্ছেদই সুযোগ করে দিলো জ্যোতিকে নিজের শিকড় চিনবার।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""