প্রায় সবকিছু হারিয়েও যে শহর এখনো আমাদের প্রাণ-স্পন্দনে কখনো-কখনো আশ্বাসের হিল্লোল তুলতে পারে সেই শহর যাঁদের অবস্থিতির ঔজ্জ্বল্যে উজ্জ্বল হয়ে থাকে বা থাকত অশোক মিত্র অবশ্যই তাঁদের একজন। যদিও এই শহর তাঁর ধাত্রীভূমি নয়। তিনি ঢাকার, ঢাকাও তাঁর।
একটু একটু করে ডানা মেলার সময়পর্বের নিবিড় সুখ ও মধুর দুঃখানুভবের মধ্যেই তাঁর আজীবনের মানসিক বসবাস। বরং কলকাতা নিয়ে তাঁর মনের গভীরে থাকা দুরন্ত এক অভিমান তিনি শেষদিন পর্যন্ত সযত্নে লালন করেছেন। অর্থনীতির কৃতী ছাত্র তিনি, টিমবার্গেনের তত্ত্বাবধানে তাঁর সাড়াজাগানো গবেষণা। সেই সুবাদেই জীবিকার দায় সামলেছেন দেশ-বিদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে। তত্ত্বগত বামপন্থায় তাঁর অটুট আস্থায় কখনো চিড় ধরেনি। এই আস্থাই তাঁকে প্ররোচিত করেছে কখনো কেরলে প্রথম কমিউনিস্ট সরকারের বাজেট তৈরির নেপথ্য কারিগর হতে, কখনো ভারত সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলাতে, আর কখনো-বা সরাসরি মন্ত্রীপদে আসীন হয়ে সাধ্য ও সুযোগমতো বামপন্থী কার্যক্রম রূপায়ণে ব্রতী হতে। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনে রাজ্যের নিয়ত ক্ষতির দিকটা তিনিই প্রথম
স্পষ্ট করে লোকচক্ষুর সামনে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, বে-আইনি অর্থলগ্নি সংস্থা বিলোপের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় নিয়ত নিয়োজিত থেকেও সিদ্ধি তিনি পাননি, পাওয়ার কথাও নয় অবশ্য। মন্ত্রীর পদ আর দলীয় সংস্কার ছাড়তে তাঁর কোনো দ্বিধা হয়নি, কিন্তু আমৃত্যু থেকে গেলেন মার্কসের তত্ত্ব-দুনিয়ার অনুগত সৈনিক হিসেবে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""