শীতের বিবর্ণ আকাশ, আকাশে চিমনির মাথা জেগে নেই।
কোলাহল নেই। এখন যেন নৈঃশব্দের যুগ। যে সব যন্ত্র এসে মানুষের হাতের কাজ কেড়ে নিচ্ছে, সেই সব যন্ত্র নিঃশব্দেই কাজ সারে। পৃথিবীর সব কোলাহল মুছে যাওয়ার দিন এসে গেল বোধহয়। অখিল অবাক হয়ে বন্ধ কাচকলের প্রাচীরের দিকে চেয়েছিল। একটি পোস্টারও নেই কল খুলবার দাবী জানিয়ে। একটি কল, অনেক কল পরপর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তার জন্য কোনো কোলাহল নেই। অথচ সবাই স্বপ্ন দ্যাখে ভোরের ঘুম ভাঙাবে কারখানার ভোঁ। কাচকল খুলবে না জেনে গিয়েও স্বপ্ন দ্যাখে খুলে গেছে দরজা। অখিল তার মনে কথা সাজাতে সাজাতে টের পায়, বৈরাগী ভাবত কাচকলের জমিতে আবাসন হয়ে গেলেও কাচকল খুলবে একদিন। ভোঁ বাজবে। যে নিমগাছটা এই এখানে, প্রাচীরের বাইরে বা ভিতরে ছিল অনেকদিন আগে ডালপালা মেলে, তাকে ধ্বংসের পরও তার গন্ধ বিলোপ করা যায়নি। গন্ধটা লুকিয়েছিল।
বসন্তে তার ঘুম ভাঙে। বৈরাগী তা টের পেত। বৈরাগী চাইত না এই গন্ধ লুপ্ত হয়ে যাক।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""