বাংলা কল্পবিজ্ঞান পাঠকদের কাছে আমার সাহিত্যচর্চার কিছুটা হলেও পৌঁছে দিতে পেরে আজ অপরিমেয় আনন্দে এবং তৃপ্তিতে মনটা ভরে যাচ্ছে। আরও আনন্দ হচ্ছে এই ভেবে যে, যে সমস্ত গল্পগুলো এই সংকলনে ঠাঁই পেয়েছে, বিভিন্ন প্রকাশকের মতে সেগুলো সাধারণ গল্পের গণ্ডি পেরিয়ে এক আলাদা মাত্রার সাহিত্যরস সৃষ্টিতে সক্ষম। আমার মনে হয়েছে এই ব্যাতিক্রমী গল্পগুলো নতুন এক জরের সৃষ্টি করেছে, পাঠক যার সঙ্গে এখনও খুব একটা পরিচিত হননি। তাই আমি সেই বিষয়ে নিজের কিছু মতাদর্শ তুলে ধরা অবশ্যকর্তব্য বলে মনে করি।
প্রথমত, বর্তমানে কল্পবিজ্ঞান জরের লেখায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, কথোপকথন এসবের কিছুই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ ঘটানো যায় না (যদিও তাদের মধ্যে ব্যাতিক্রমী লেখাও আছে। যে লেখা মেইনস্ট্রিম ঘেঁষা হলেও তার সঙ্গে অন্য কোনও লেখারই সেভাবে তুলনা চলে না। উদাহরণ দিয়েই বলি- অমিতাভঘোষের লেখা "কলকাতা ক্রোমোজোম" এবং মুরাকামি বা হউলেবেকের সৃষ্ট বেশ কিছু ডিস্টোপিয়ান লেখা, যাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে এই জরের সঙ্গে মিশে গেছে অধিবাস্তববাদ এবং যাদুবিদ্যা)। কারণ, বেশিরভাগ কল্পবিজ্ঞান পাঠকই কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস বা গল্প বলতে মনে করেন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে লেখা কোনও গল্পের পটভূমি। এমন এক পটভূমি যেখানে প্রযুক্তির অবশ্যম্ভাবী উন্নতি ঘটেছে, অথবা বদলেছে সুদূর ভবিষ্যৎকে দেখার দৃষ্টিকোণ। বিজ্ঞানের গূঢ় তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে, ভবিষ্যতের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের ভিত্তিতে লেখা গল্প, পাঠকের মতে প্রকল্পবিজ্ঞান" গল্পে আখ্যায়িত হয়ে থাকে। সেরকম একটা ক্ষেত্র ধরা যেতে পারে স্টিম পাঙ্ক, যেখানে গল্পের বিভিন্ন পরিস্থিতিগুলো প্রযুক্তিগত বিকাশ থেকে উদ্ভূত হচ্ছে এবং তাকে ভেঙে পড়া সামাজ ব্যাবস্থার পরিবর্তনে বা উন্নতি সাধনে কাজে লাগানো হচ্ছে। কল্পবিজ্ঞান জগতে সেই পরিবর্তন শুধু বর্তমানে পৃথিবীর বুকেই ঘটছে না, ঘটছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। এমনকী যার সম্ভাবনা রয়েছে বহুমাত্রিক জগতের মধ্যেও।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""