শ্রীকান্ত মিত্র, ওরফে কানুবাবু আর প্রদীপ গুপ্ত, ওরফে ভোলাবাবু ছিলেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু। তাঁরা উত্তর কলকাতার এক পাড়ায় বড়ো হয়েছেন। এক স্কুল, এক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। পরে শ্রীকান্ত চলে যান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আর প্রদীপ যান অ্যাকাউন্টেন্সি পড়তে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, নিজের নিজের কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে দু-জনেই কলকাতার কাছে একটি বহুজাতিক সংস্থার ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে আমি যখন সিভিল কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্টে অ্যাপ্রেন্টিস ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দিয়ে তাঁদের দেখি তখন কানুবাবু মেক্যানিকাল ডিপার্টমেন্টের দোর্দণ্ডপ্রতাপ ম্যানেজার আর ভোলাবাবু ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ অ্যাকাউন্টস। দু-জনেই কোম্পানির সিনিয়ার স্টাফ কোয়ার্টাসে থাকেন, বয়েস ষাটের কাছাকাছি, অবসর নেবার আর বছর দুয়েক বাকি।
এঁদের প্রথম দর্শনে আমার একটা কথাই মনে হয়েছিল যে অভিন্নহৃদয় হওয়া তো দূরস্থান, এই দু-জন আদৌ বন্ধু হলেন কী করে। কারণ, দু-জনের মধ্যে কোনোদিক দিয়েই কোনোরকম মিল ছিল না। শ্রীকান্ত মিত্র দীর্ঘদেহী, ছটফটে, মাথায় কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কাঁচাপাকা চুল, সারাদিন ওয়ার্কশপগুলোয় চরকির মতো ঘুরছেন, কোথাও কোনো গাফিলতি সহ্য করেন না, সবাই তাঁর ভয়ে তটস্থ। আর প্রদীপ গুপ্ত শান্ত, অনতিদীর্ঘ, কিঞ্চিৎ স্থূলকায়, মাথাজোড়া টাক, কথা খুব কম বলেন আর অফিসের বাইরে যত্রতত্র অকাতরে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু, আশ্চর্য ব্যাপার, এসব পার্থক্য তাঁদের ঘনিষ্ঠতায় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কখনো।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""