চায়ের দোকানের সামনে একটা বেঞ্চ পাতা ছিল। তার ওপর দুজনে একেবারে পাশাপাশি। দীপু আর তপু। দীপক আর তপেন।
দুজনে একই বাড়ির ছেলে। গলির একেবারে কোণে যে লাল রঙের বাড়ি, তারই একতলার ভাড়াটে। খুড়তুতো জ্যাঠতুতো ভাই। প্রায় একবয়সি। খুব হিসাব করে দেখলে জানা যায় দীপু তপুর চেয়ে মাস দুয়েকের বড়ো।
পাড়ার হিন্দুনিকেতনে দুজনে আট ক্লাসে পড়ে। পড়ে মানে বইখাতা হাতে করে স্কুলে যায় ওই পর্যন্ত, ক্লাসে বেশিক্ষণ থাকে না। বেরিয়ে পড়ে। তারপর সারাটা দুপুর টো-টো করে ঘুরে বেড়ায়।
এখন লোকের বাগান বিশেষ নেই। গাছপালা কেটে কারখানা চালু হচ্ছে। কাজেই পরের বাগানের ফলপাকুড় চুরি করার সুবিধা নেই। খাল বিলে মাছ ধরার সুযোগও কম।
দুজনে শহরতলির পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। কোথাও সাধুর ভেলকিবাজি দেখে, কোথাও বানরনাচ, আবার কোনো কোনোদিন বইখাতা মাথায় পার্কে টানা ঘুম লাগায়।
এর জন্য বাড়িতে যে লাঞ্ছনা জোটে না, এমন নয়।
তপেনের বাপ নেই। অনেকদিন মারা গেছে। দীপুর বাবাই অভিভাবক।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""