এই বইয়ের ভূমিকা একরকম খোঁট ধরেই লেখানো হচ্ছে আমাকে। সেই সঙ্গে এও বলে শাসানো হয়েছে যে লেখক ও উপন্যাস সম্পর্কে দু চারটে ভালো-মন্দ কথা যেন কায়দা করে গছিয়ে দিই আপনাকে। সুতরাং আমার কথায় বাড় না খেয়ে ট্যাকের জোর, ডিস্কাউন্ট, লেখকের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক, সিওডি এডিলেডল কিনা, ও কয়েক পাতা উলটে পালটে দেখে নিয়ে তবে খরিদ করুন বইটা। নিন, আমার স্বর্গের টিকিট কনফার্ম, এবার আপনাকে একটু বাড় খাওয়ানো যাক...
এ বই আমি প্রথম যখন পড়ি, তখন থেকে এই ভূমিকা লেখার সময় অবধি প্রায় মাসচারেক কেটে গেছে, ফলে হয়েছে কি, উপন্যাসের অধিকাংশ ঘটনা আমি ভুলে মেরে দিয়েছি। কেবল কিছু ছেঁড়া ছেঁড়া দৃশ্য, শব্দ আর চরিত্র রয়ে গিয়েছে মাথার ভিতরে। কিন্তু তা দিয়ে তো আর ভূমিকা লেখা যায় না... ফলে বইটা আবার পড়া শুরু করতে যাব, এমন সময় থমকে গেলাম তাজ্জব ব্যাপার। এমন তো আগে হয়নি। একটা থ্রিলার উপন্যাসের সমস্ত রহস্য উদ্ঘাটিত হয়ে যাবার পর, সব টুইস্ট, একশন সিকোয়েন্স করায়ত্ত হয়ে যাওয়ার পরেও দৃশ্য, শব্দ, চরিত্রগুলো এমন নিটোল হয়ে রয়ে গেল কেমন করে?
তবে কি এ বইটা থ্রিলার ছিল না?
ভেবে দেখলাম তাও নয়। প্রতি মুহূর্তে কী হবে কী হবে ভাব। চেক। আচমকা কাহিনির মোড় বদল? চেক। সিক্রেট সোসাইটি, ঐতিহাসিক ঘটনা, ইতিহাসের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া মিথ, অ্যাডভেঞ্চার আর... না ওটা গল্পের ক্লাইমাক্সের জন্য তোলা থাক। হালকা অলৌকিকের আভাস, পাতায় পাতায় শিরদাঁড়া টানটান? নাঃ কোনও চেকই বাউন্স করেনি। তবে?
....এবং রণদীপ নন্দী। যার শব্দের ব্যবহার, দৃশ্যের বুনন, অনুভূতির ছোঁয়া ক্লাসিক উপন্যাসের সব ব্যাকরণকে স্পর্শ করে যায়... তিনি এই বইতে দেখিয়েছেন কী করে তীব্র উত্তেজক ইডিএমের সঙ্গে মোৎজার্টের সিম্ফোনি মিশিয়ে দেওয়া যায়, মারকাটারি চরিত্রদেরকে কী করে পাঠকের মনের মধ্যে গেঁথে দেওয়া যায়, থ্রিলার উপন্যাসের মোড়কেও কী করে আপনার চোখ ভিজিয়ে দেওয়া যায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""