সৌম্যসুন্দরের একডজন গল্প নিয়ে এই বইটার পাণ্ডুলিপি হাতে পেয়ে প্রথম দর্শনেই তার নির্মেদ ও ভারহীন গদ্যটা চোখ টেনে নিয়েছিল। লৌকিক-অলৌকিক, বাস্তব-অবাস্তবের সীমানায় ঘোরাফেরা করা যে সাহিত্যরীতি এখন পাঠক 'খায়' তাতে লিখিয়েদের প্রচুর পড়াশোনা, প্রচুর কল্পনাবিস্তারের মতো সদগুণগুলো ভরপুর থাকলেও তার পাশাপাশি প্রায়শ সে-লেখাদের যাত্রাধর্মিতা সামান্য পীড়াদায়ক হয় বইকী। (সবক্ষেত্রে নয় অবশ্য) সেখানে রং ও শব্দ বড় চড়াদাগে বাঁধা, যেন পাঠক এমন হতভাগা পাকা নেশাড়ু যাকে চড়া ডোজের দাওয়াই না দিলে নেশা মোটে ধরবে না। ফলে সেখানে ভয় হয়ে ওঠে অতিভয়। অ্যাকশান হয়ে ওঠে সুপার অ্যাকশান। যে কথাটা ফিসফিস করে বললেই যথেষ্ট রোমাঞ্চ আসত সেইটেকেই একেবারে রগরগে মশলাদার করে যাত্রা স্টাইলে পরিবশন বহুক্ষেত্রেই রসাভাস ঘটায়।
এই বইটার গল্পগুলো সে-বিষয়ে লিখিয়ের নামটার সার্থক প্রয়োগ করেছে।
তার চরিত্রেরা কোনও প্রবল ক্র্যাশ মিউজিক ছাড়াই লৌকিক থেকে অলৌকিকে, বাস্তব থেকে অতি বা পরাবাস্তবে এমন স্বচ্ছন্দে ঢুকে পড়ে যে পাঠকের মনে হবে সেইটেই স্বাভাবিক, আমিও পারি। পাঠককে এইভাবে গল্পের মধ্যে টেনে নেবার এই কৌশলটা যার থাকে তার থাকে। গল্প লেখার ওয়ার্কশপ করে তাকে বাগে পাওয়া যায় না।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""