কদিন গভর্নর স্যার রিচার্ড টেম্পলের ছেলে কারনাক টেম্পল, রেভারেন্ড লালবিহারী দে-কে নিজের কামরায় তলব করলেন। লালবিহারীর সদ্য প্রকাশিত "বেঙ্গল পেজেন্ট'স লাইফ” বইটার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানালেন, এদেশের বুড়িরা সন্ধেবেলায় নাতি নাতনিদের যেসব গল্প করে ঘুম পাড়ায়, সেইসব অলিখিত গল্পের এক সংকলন পেলে বেশ হয়। প্রস্তাবটা মনে ধরল লালবিহারীর। গ্রামে গ্রামে ঘুরে নানা গল্প বলা বুড়ি, বুড়ো ব্রাহ্মণ আর বুড়ো নাপিতের মুখের গল্প জোগাড় করে নিজের কথনে ১৮৮৩ সালে প্রকাশ করলেন তাঁর ম্যাগনাম ওপাস, 'ফোক টেলস অফ বেঙ্গল'। বইয়ের মুখবন্ধে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা লিখেছিলেন লালবিহারী দে:
"গ্রিম ভাইদের রূপকথা, দাসেন্টের বলা নর্সদের উপকথা, পাওয়েলের অনুবাদে আরনাসনের আইসল্যান্ডের গল্প, কিংবা ক্যাম্পবেলের অনুবাদে হাইল্যান্ডের গল্প আর অন্যান্য লেখকদের লেখা বিভিন্ন রূপকথা আমার পড়া ছিল আগেই। এই প্রস্তাব শোনামাত্র আমার মনে হল বিশ্বজোড়া এই লোককথা, উপকথা আর রূপকথার চর্চার দিনে এই কাজ কোথাও বাংলার গঙ্গাতীরের কালো কালো উলঙ্গ চাষার সঙ্গে মিলিয়ে দেবে টেমসের ধারে বড়ো হওয়া ফর্সা, সুবেশ ইংরেজকে।"
রূপকথার মূল নাড়িটা শুরুতেই ধরে ফেলেছেন লালবিহারী। স্থান কাল পাত্র ভাষা অতিক্রম করে রূপকথা এক অলীক লেভেলার। নিজের জাদুকাঠি বুলিয়ে সে মিলিয়ে দেয় সবাইকে। নিয়ে আসে এক ছাদের তলায়, যেখানে সবাই মন দিয়ে এই আখ্যান শুনে চলে। আর ব্যগ্র হয়ে প্রশ্ন করে, "তারপর কী হল?"
বুঝেছিলেন দক্ষিণারঞ্জনও। বিশ শতকের গোড়ার দিকে ঢাকা ময়মনসিংহ চষে ফেলে তিনি গ্রামের বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের থেকে শুনে চলেছেন লোক আখ্যান। দেখছেন কথক থেকে কথকে কীভাবে বদলে বদলে যায় একই আখ্যানের উপাদান, ক্লাইম্যাক্স, সমাপ্তি। দরকারে মোমের রেকর্ডে তুলে নিচ্ছেন কথকের গলার আওয়াজ। যতদূর সম্ভব মূলের ধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে প্রায় অবিকল অবিকৃত ভাবে ১৯০৭ সালে ভট্টাচার্য্য এন্ড সন্স থেকে প্রকাশ পেল দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""