ইংল্যান্ড পেরিয়ে ইউরোপ এবং তারপর বিশ্বের অন্যত্র নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে শেকসপিয়রের অনন্য প্রভুত্বের স্বীকৃতি রয়েছে ব্লুমফিল্ডের এই পর্যবেক্ষণে। মনে হয় এই কথাগুলি অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে ইংরেজ কোম্পানি শাসনাধীন বাংলা তথা উত্তরকালের ইম্পিরিয়াল রুলের ভারতবর্ষ সম্বন্ধেও বিশেষভাবে প্রযোজ্য। প্রভুত্বকামী ও বাণিজ্যমনস্ক ইংরেজরা বুঝতে ভুল করেনি যে শেকসপিয়রের নাটককে আশ্রয় করে তারা বঙ্গসমাজকে কাছে আনতে পারবে। বঙ্গে বাঙালির নিজস্ব রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই ইংরেজ সিভিলিয়ানরা তাঁদের দেশের রঙ্গশালার মডেলে বেশ কয়েকটি রঙ্গালয় স্থাপন করেছিলেন, যেখানে অন্যান্য নাটকের সঙ্গে শেকসপিয়রের নাটকও অভিনীত হত। আনুমানিক ১৭৫৩-তে কলকাতার লালবাজারে প্রতিষ্ঠিত 'ওল্ড প্লে হাউস' রঙ্গালয়ে নিয়মিত শেকসপিয়রের নাটক অভিনীত হত কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও শেকসপিয়র বিশেষজ্ঞ ডেভিড গ্যারিক এখানকার নাট্য-উপদেষ্টা ছিলেন। কলকাতার দ্বিতীয় রঙ্গালয় ১৭৭৫-এ প্রতিষ্ঠিত 'ক্যালকাটা থিয়েটার', যাকে লোকে বলত 'নিউ প্লে হাউস'। এখানে শেকসপিয়রের 'দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস', 'হ্যামলেট', 'ম্যাকবেথ', 'রিচার্ড দ্য থার্ড', 'ওথেলো', 'কিং লিয়ার' প্রভৃতি নাটকের অভিনয় হয়েছিল। এখানে গ্যারিকের শিষ্য মেসিংক এসেছিলেন অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দিতে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""