আশিষ অভিকুস্তকের সঙ্গে আমার আলাপ এক দশকের কিছু বেশি সময় আগে। ওঁর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি 'অন্তরাল' দেখবার পর সমাজ মাধ্যমে যোগাযোগ করি। তারপর দীর্ঘ ইমেল চালাচালি। অপ্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের মতো সেই কথোপকথনে আশিষের সিনেমার ঘরানা স্পষ্ট হয়ে ওঠে আমার কাছে।
কীভাবে তিনি এগিয়ে নিয়ে চলেছেন চলচ্চিত্রের শিল্পরূপ, আন্দ্রেই তারকভস্কি, মনি কউল বা কুমার শাহানির ধারায়, অমৃত গাঙ্গার যাকে বলেছেন 'সিনেমা প্রয়োগা- অর্থাৎ এমন এক চলচ্চিত্র প্রয়োগ যেখানে সিনেমা দৃশ্যনির্ভর না হয়ে সময়কেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। 'অন্তরাল' নিয়ে সে-সময় এক লেখা লিখছিলাম। সেইসূত্রে আশিষ-দার সঙ্গে দেখা করি। আশিষ চড়া ওরফে আশিষ অভিকুন্তক আমেরিকায় অধ্যাপনা করেন ইউনিভার্সিটি অফ রোড আইল্যান্ডে, বড়ো হয়েছেন কলকাতায়। তখন শীতের কলকাতা, বোধহয় ডিসেম্বর মাস। আমরা গোলপার্কের কাছের এক সিসিডি-তে বসে অনেকক্ষণ কথা বলি। আড্ডা হয় ওঁর সিনেমাদর্শন নিয়ে। পুরোনো অ্যানালগ ফিল্ম আর তার স্পর্শময়তা কতটা আকর্ষণ করে ওকে, তা বুঝতে পারি। ভিমিও-র পাসওয়ার্ড পেয়ে ততদিনে অভিকুস্তকের একাধিক শর্ট ফিল্ম অনলাইন দেখে ফেলেছি। ওঁর সিনেমার ঘনায়মান কালবলয়, স্পর্ধিত গল্পহীনতা এবং গহিন দার্শনিকতা আবিষ্ট করেছে আমায়। এখন দশ বছর পর আর-এক ডিসেম্বরে শীত যখন আসন্ন, সময়ের বৃত্তায়নে লিখতে বসেছি অভিকুস্তকের সিনেমা, বিশেষত 'রতি চক্রব্যূহ' নিয়ে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""