বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ উপন্যাসের উপক্রমনিকা অংশে অরণ্য। প্রকৃতির যে অসাধারণ বর্ণনা রয়েছে তার বিস্তৃত চিত্র আমরা পাই উত্তরকালে বিভূতি ভূষন বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরণ্যকা উপন্যাসে।
সেই অন্তশূন্য অরণ্য মধ্যে, সেই সূচীভেদ্য অন্ধকারময় নিশীথে, সেই অননুভবনীয় নিস্তব্ধ মধ্যে শব্দ হইল, "আমার মনকাম কি সিদ্ধ হইবে না?" ১১৭৬ সালে গ্রীষ্মকালে যে উপন্যাসের শুরু তা ফ্ল্যাশব্যাকে ১১৭৪ সালে বাংলায় ফসল ভালো না হওয়া, ১১৭৫ সালের বর্ষাকালে সাময়িক বৃষ্টির পর, অশ্বিন কার্ত্তিক মাস থেকে অনাবৃস্টির ফলে, যে ভয়াবহ খরার সূত্রপাত, তা রাজপুরুষদের তাদের সিপাহীদের জন্য সমস্ত ধান কিনে রাখা ও রাজস্ব আদায়ের কর্তা মহম্মদ রেজা খাঁ-এর শতকরা দশ টাকা রাজস্ব বাড়িয়ে দেওয়ার অমানবিক সিদ্ধান্তে, ততোধিক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সূচনা ঘটাল যা অতি কুখ্যাত মন্বন্তর-এর রূপ নিয়ে ইতিহাসের একটি কালিমালিপ্ত অধ্যায় হয়ে রইল।
মহেন্দ্র সিংহ, কল্যানী, "হরে মুরারে মধুকৈটভারে",-র ঋষিপ্রতিম মানুষটি, সন্তানদল, "বন্দেমাতরম' ধ্বনির উদাত্ত আহ্বান, শৃঙ্খলিত দেশমাতৃকা, চৈতন্য দেবের বৈষ্ণবধর্মের সঙ্গে সন্তানদলের আদর্শের পার্থক্য, মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে বিধৃত করে "আনন্দমঠ" ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে তার চিরকালীন পদচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""