বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ ও দুধ। বাংলার সোনার ক্ষেত, অবারিত মাঠ ও নদ-নদী-খাল-বিল বাঙালিকে চিরকালই ভাত, মাছ ও দুধ প্রাচুর্যের সাথে জুগিয়ে আসছে। কিন্তু ইদানীং বাজারে চলছে মাছের আকাল। নির্ভর করতে হচ্ছে অন্য রাজ্যের মাছের উপরে। অথচ ভাবতে অবাক লাগে, বাংলার জল-মাটি-বায়ু মাছ চাষের অতি উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ব্যাপকভাবে মাছ চাষ হয় কই? মাছ চাষ কৃষির পরবর্তী স্থান নিয়ে আর্থিক সংকট দূর করতে পারে। সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহৃত হতে পারে আমাদের জলাভূমি।
এসব কথা মাথায় রেখেই বর্তমান বইয়ের উপস্থাপনা। এই বই লিখতে গিয়ে কয়েকটি বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণের কাছে পুকুরে মাছ চাষের মূল কথাগুলি অনায়াসে পৌঁছনো যায়। দ্বিতীয়তঃ, বইয়ের অধ্যায়গুলো এবং অধ্যায়ের ভেতরের পরিচ্ছেদগুলোকে যুক্তিসম্মতভাবে সাজাতে চেষ্টা করা হয়েছে যাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং পাঠকের কাছে সহজপাঠ্য হয়। তৃতীয়তঃ, বিষয়বস্তু ও প্রযুক্তি নির্বাচনে পশ্চিমবাংলার আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা ও পরিপ্রেক্ষিতকে সামনে রাখা হয়েছে। এজন্যই মাঠ পর্যায়ে চাহিদা নিরুপণ এবং গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা ও তথ্যের উপর সর্বশেষে জোর দেওয়া হয়েছে। চতুর্থতঃ, লিখিত বক্তব্যকে প্রাঞ্জল ও আকর্ষণীয় করার জন্য প্রচুর স্কেচ ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পঞ্চমতঃ, বিষয়বস্তু যাতে সফল মাপকাঠিতে পরিবেশসম্মত হয় সেদিকে পূর্ণ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবাংলার মিঠে জলে মাছ চাষের ব্যাপারে বিশেষভাবে এগিয়ে এসেছে হাওড়া, হুগলী, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগণা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ইত্যাদি জেলা। এই জেলাগুলির কিছু চাষীভাই গতানুগতিক রুই, কাতলা, মৃগেল চাষ ছেড়ে অন্যজাতের মাছ চাষেও এগিয়ে আসছেন, যা সত্যি সাধুবাদযোগ্য। উপযুক্ত প্রযুক্তি অবলম্বনে এরা অবশ্যই সফলতা পেতে পারেন। এ জন্যই নানা খুঁটিনাটি তথ্য পরিবেশিত হয়েছে এই বইয়ে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""