আমি পেশাগতভাবে সাংবাদিকতা জগতে আসি উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর। বেণুদির সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ সেই সময়ই। অবশ্য একটি চলচ্চিত্রের পত্রিকার হয়ে উত্তমকুমারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতেই। তখনই সুপ্রিয়া দেবীকে প্রথম দেখি। সেটা বোধ হয় আশি সালের এপ্রিল মাস হবে। ১৯৮২ সালের পর সাংবাদিকতা সূত্রে নানাসময়ে সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে দেখা হতে থাকে স্টুডিওয় বা কোনও সিনেমা-সমাবেশে কিংবা ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে। সুপ্রিয়াদি থেকে বেণুদি হতে একটুও দেরি হয়নি। বেণুদি সারাক্ষণই থাকতেন উত্তমময়। প্রায় সব গল্পের কেন্দ্রবিন্দু 'তোমাদের দাদা মানে সুপ্রিয়ার উত্তম। বেণুদির মুখে উত্তমকে নিয়ে অনেক অজানা কথা শুনেছি। অনেক অজানা বিষয় জেনেছি। এইরকম একটা সময় বেণুদি নিজের জীবন লিখতে শুরু করেন। আমি তখন লেখালেখিসূত্রে 'সানন্দা'-র সঙ্গে যুক্ত। কীভাবে যেন বেণুদির এই আত্মজীবনী লেখার খবর 'সানন্দা'-র সম্পাদক অপর্ণা সেনের কানে এসে পৌঁছোয়। ঠিক হয়, 'সানন্দা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হবে। বেণুদির কাছ থেকে চারটে ডায়েরি পাওয়া যায়, যেখানে তাঁর আত্মজীবনীর অনেকটা লেখা রয়েছে। এরপর তাঁর জীবনের কথা আরও লিখতে থাকেন সুপ্রিয়া। সেই সময় খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল লেখাটি। এরপর বই হয়ে বেরোয় 'আমার জীবন আমার উত্তম'। কিছুদিনের মধ্যেই বইটি আউট অফ প্রিন্ট হয়ে যায়। এই গ্রন্থটি আবার নতুন করে প্রকাশ করলেন দে বুক স্টোরের কর্ণধার দীপু দে। আগের সংস্করণের সঙ্গে এবারের বইটির প্রধান তফাত, এই সংস্করণটি সম্পাদনা ও সটীককরণ করা হয়েছে। তবে কোনও কারণেই সুপ্রিয়া দেবীর মূল লেখা ও বাক্যবিন্যাসের কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। প্রয়োজনে ফুট নোট দেওয়া হয়েছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""