বৌদ্ধ সহজিয়া পন্থীরা যেদিন লোক সমাজের কাছে তথাগতের বাণী ও সাধন প্রণালীকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য লোকসাধারণের ভাষায় নির্মাণ করেছিলেন চর্যাগীতি সেদিনই রচিত হয়েছিল এই বাংলার প্রথম লোককবিতা। চর্যাপদের কবিদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন তথাকথিত নিম্নবর্গের বা অন্ত্যজ শ্লেচ্ছ সম্প্রদায়ের মানুষ। বর্ণাশ্রম প্রথা ও অস্পৃশ্যতা উৎকটভাবে বিদ্যমান থাকায় অভিজাত শ্রেণির ঘৃণা ও অবজ্ঞার শিকার হয়েছিলেন তাঁরা। এই অবজ্ঞা ও ঘৃণার কারণে তাঁরা উচ্চবর্গের অভিজ্ঞাতদের ভাষা (সংস্কৃত ভাষা) কে বর্জন করে লোকসাধারণের অখ্যাত ভাষাকে তুলে ধরেছিলেন। চর্যাপদের অন্যতম একজন কবি কাহপার একটি পদ থেকে জানা যায় সে যুগে অন্তাজ শ্রেণির লোকেরা উচ্চবর্ণ ও ধনিকশ্রেণি অধ্যুষিত নগরে বসবাস করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। কাহপা লিখেছেন,
নগর বাহিরে ডোম্বি তোহারি কুড়ি আ
ছোই ছোই জাহ সো বাম্বন্ধ নাড়িআ।।।
চর্যাযুগের এইসব তথাকথিত নিম্নবর্গ ও অন্ত্যজ শ্রেণির কবিরা সেদিন উচ্চবর্গের দেবভাষার অভিজাত বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে না এলে আমরা আমাদের বহুসাধের আমরি বাংলা ভাষাকে খুঁজে পেতাম না। অবশ্য দেবভাষায় অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষদের সাহিত্য নির্মাণ তখনও সমাজ অনুমোদিত ছিল না।
এমনকী অন্ত্যজ শ্রেণির সংস্কৃত ভাষায় রচিত মহাকাব্যগুলি পাঠ করলেও নরকগমন ছিল অবধারিত। চর্যাযুগ পার হয়ে যাওয়ার বহু পরে বাংলাদেশের একটি শ্লোক থেকে জানা যায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""