পলাশী যুদ্ধের পর "কোম্পানির বাংলা দখলের কিছু পরে নন্দকুমারের ফাঁশী হবার কিছু পূর্ব্বে আমাদের বাবুর প্রপিতামহ নিমকের দাওয়ান ছিলেন, সেকালে নিম্নস্ফীর দাওয়ানীতে বিলক্ষণ দশ টাকা উপায় ছিল; সুতরাং বাবুর প্রপিতামহ পাঁচ বৎসর কর্ম্ম করে মৃত্যুকালে প্রায় বিশ লক্ষ
টাকা রেখে যান-সেই অবধি বাবুরা বনেদি বড় মানুষ হয়ে পড়েন। বনেদি বড় মানুষ কল্লাতে গেলে বাঙ্গালী সমাজে যে সরঞ্জামগুলি আবশ্যক, আমাদের বাবুদের তা সমস্তই সংগ্রহ করা হয়েচে" -কথাগুলি বলেছেন হুতোম প্যাঁচা তাঁর নকশায়।
এই নববাবু বা হঠাৎ বাবুদের বারো মাসে তেরো পার্বণে উৎসবে যেমন দু-হাত ভরে টাকা খরচ করতেন, তেমনি অন্যান্য ফুর্তি করতেও খরচে কার্পণ্য করতেন না। 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় ১৮২১ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি লেখা হয়েছিল-বাবু হতে গেলে তার কি কি লক্ষণ লাগে-
"ঘুড়ী তুড়ী জস দান আখড়া বুলবুলি মনিয়া গান। অষ্টাহ বনভোজন এই নবধা বাবুর লক্ষণ।"
এর প্রায় ৬৫ বছর পরে প্রিয়নাথ পালিত ১৮৮৫ সালে 'টাইটেল দর্পণ' গ্রন্থে লিখলেন বিবর্তিত বাবুর লক্ষণ:
তবে নাম জানিবে সকলে।
'সুধু বাবু হয় নাই, আটটি লক্ষণ চাই বেশ্যাবাড়ি ছড়ি ঘড়ি বিকেলে ফিটন গাড়ি।
দিবানিশি ভাস লাল জলে।
গান বাদ্য কর সার মাছ ধর রবিবার।
চুল কাট আলবার্ট ফ্যাসানে।'
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""