আমি রাজপুত্তুর নই, তাই আমার ডানা-অলা ঘোড়া পক্ষিরাজ নেই। পক্ষিরাজ নেই, কিন্তু আছে ঘুরে বেড়ানোর শখ। ধুলোওড়া পথ, ছায়ামাখা পথ, লোক গিজগিজ পথ, শুনশান পথ-সব রকম পথ ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে আমার। ভালো লাগে পথে যেতে যেতে চেয়ে চেয়ে দেখতে নানা জিনিস, খুঁটিনাটি অনেক কিছু। এই ধরো, গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালি, নোড়ানুড়ি, কাটকুটরো, কত্ত কিছু দেখি চোখ মেলে। কখনও চলতে চলতে, কখনও দাঁড়িয়ে খানিক। লোকজন, বাড়িঘর-তাও দেখি। যখন কোনও পুরোনো বাড়ি চোখে পড়ে, মন কেমন উদাস হয়ে যায়। এমন বাড়ি, যার সারা শরীরে সবুজ রঙের শ্যাওলা, এখানে-ওখানে বুনো গাছের উঁকিঝুকি দরজা খোলা, অথচ ভেতরে ঢুকতে ভয় করে, গা শিরশির করে ওঠে! ওই গা-ছমছম-করা বাড়িটার বাইরে দাঁড়িয়ে ভাবি, কারা থাকত এখানে? ভালো করে দেখি, দরজায় বাঘের মুখে ঘাস কিংবা হরিণের মুখে গোস্ত আছে কিনা। না, ওরকম কিছুই নেই দরজায়। পা বাড়ালেই অন্দরমহলে চলে যাওয়া যায়। আমি কিন্তু ভেতরে যাইনি। বাইরে দাঁড়িয়েই প্রশ্ন করি, "বাড়িতে কেউ আছেন?” প্রশ্নের জবাব আসে না, তবে একটি কি দু'টি চামচিকে ওড়াউড়ি করে জানান দেয় যে, ওরা এ বাড়ির বাসিন্দা। আমি সেই সবুজ রঙের শ্যাওলা-ঢাকা, ছায়া-ছায়া বাড়ি ছেড়ে চলে যাই অন্য কোথাও। অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে; কিছুটা ভয় পেয়ে, ভয় পাওয়ার আনন্দে কিছুটা।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""