এবং সময় তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে। কারো অনুরোধ-উপরোধে সে পিছনে ফেরে না। জীবন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। এই চলার পথটি সর্বদা সরল নয়। চড়াই-উতরাই অথবা সমতল পথে অপেক্ষা করে থাকে অসংখ্য বাঁক। এই বাঁকে বাঁকে এগিয়ে চলাই জীবনের ধর্ম। স্বাধীনতা-পূর্ব সময় থেকে গত শতাব্দীর সাতের দশক পর্যন্ত এই উপন্যাসের ঘটনাকাল। স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী স্বাধীনতা-উত্তর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিধ্বস্ত দুটি উদ্বাস্তু হিন্দু পরিবারকে কেন্দ্র করে অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে উপন্যাসটিতে। দারিদ্র্য আর নিরাপত্তাহীনতার দোলাচলে সমসাময়িক রাজনীতির উত্তাল দিনগুলির আঁচ সহ্য করে পরিবার দু'টি অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে শিকড় স্থাপন করে। দু'টি পরিবারের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কও স্থাপিত হয়। আপন কর্মদোষে দারিদ্র্য তাদের পিছু ছাড়ে না। উকিল সারদাপ্রসন্নর দৌহিত্র তথা তাঁর জামাতা সুরেশচন্দ্রের পুত্র অনন্তদেব ওরফে অন্তু নিজের মেধা, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসের জোরে জীবনের অসংখ্য বাঁক পেরিয়ে কানাগলি থেকে প্রশস্ত পথে এসে আপাত থিতু হয়। তার উত্তর জীবনে আরো কত কঠিন বাঁক অপেক্ষা করে আছে সে জানে না। তবুও জীবনের নয়া বাঁক ধরে সে এগিয়ে চলে। কারণ, বাঁকে বাঁকে ভরা সামনের দিকের পথে এগিয়ে চলার নামই তো জীবন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""