এ এক চূড়ান্ত ম্যাজিকের জগৎ। গোটা শহরটাই চলে গেছে একজন ভেলকিবাজের দখলে। নিঝুম ভেলকিবাজ। তার সঙ্গী জোকার মালাকার আর ভুজঙ্গ ভজকট। গোটা শহরটাকেই এরা যেন একটা সার্কাস বানিয়ে দিয়েছে। এই শহরে স্ট্যাচুরাও কথা বলে। এদের মুখে গুটিবসন্ত। মুখের ভাব বন্য, হিংস্র বা নির্লিপ্ত। তারা এমন একজনকে খোঁজে, যাকে নিজেদের স্বার্থে বলি দেওয়া যাবে। পেটের দায়ে আর্য নিজেকে বিক্রি করতে চায় ক্ষমতাবানদের কাছে। আর্যের সঙ্গী হয় ফটোগ্রাফার পল্লব। ভেলকির দুনিয়ায় সত্য, ন্যায় এবং সুবিচারকে প্রতিনিয়ত কীভাবে হত্যা করা হয়, এই দুই ক্ষমতাহীন ব্যক্তি তার সাক্ষী হয়ে থাকে। নানাভাবে হেনস্থা করা হয় এই দুজনকে। বন্ধু বোসের মতো শহরের প্রতিষ্ঠিত ভেলকিবাজেরও গণ্যমান্য ব্যক্তি হয়ে ওঠার রহস্য জেনে যায় তারা।
এই কাহিনিতে রয়েছেন এক সত্যদ্রষ্টা পুরুষ। আর্যের দাদা উপাধ্যায়। তাঁর মনে হয়, 'এই শহরটাকে আমি ঘেন্না করি। এত নোংরা এই শহরটা। আর মানুষগুলো সব যেন পোকার মতো। সবসময় নোংরা ঘাটছে।' উপাধ্যায়ের মেয়ে জুঁইফুল শুধুমাত্র এক নিস্পাপ শিশুই নয়, সে যেন এক মহাকাব্য। এই শহরের সমস্ত পাপের বিরুদ্ধে তার অবস্থান। এই শহরের একমাত্র লাইব্রেরিটি আছে জঙ্গলের মধ্যে। সেখানেই পড়াশুনা করে উপাধ্যায় আর সেঁজুতি, আর্যের প্রেমিকা। নির্ভেজাল সমাদ্দারের স্ট্যাচু যেন উপাধ্যায়ের বিবেক হয়ে মাঝে মধ্যে কথা বলে ওঠে। ডায়েরির মধ্য দিয়ে এই জগৎ, জীবন, সমাজ ও শহর সম্পর্কে স্বীকারোক্তি করে যান উপাধ্যায়।
কাহিনিতে ক্রমে ঢুকে পড়ে চুরাশি বছরে মৃত বন্ধু বোসের তরুণী স্ত্রী এবং নিঝুমের প্রেমিকা মায়া, যার সৌন্দর্যে সবাই সম্মোহিত এবং আকৃষ্ট। স্যাম ওয়েলার আর তাঁর যুবতী, সুন্দরী স্ত্রী ক্লারা এদেশে আসেন একটি বহুজাতিক রেঁস্তোরা "ক্লারা ইন্টারন্যাশনাল" খুলবেন বলে। স্যামকে বশ করে ফেলে মায়া। সমাজের অলিতে গলিতে উঁকি মেরে এক ভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত, পচে যাওয়া জগতের ছবি উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। রয়েছে নানা ধরনের ভেলকির কথা। মূল কাহিনি-স্রোতের মধ্যে বারবার ঢুকে গিয়েছে ছোটো ছোটো প্যারাবল। শ্লেষ ও কৌতুকের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে জীবনের গভীর কোনও সত্য। আসল চমক রয়েছে উপন্যাসের শেষে, মোক্ষম এক অভিঘাতের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। সব মিলিয়ে, এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ বিপন্ন সময়ের ছবি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""