চাকরির অ্যাপ্লাই না করেই চাকরি পেয়ে গেছিল চেরাব। আর তাও এমন একটা দেশে, যেখানে চাকরির জন্য যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মানুষকে বেকারত্বের জ্বালা সইতে হয়। হা-হুতাশ করতে হয়। অনুরণনের মতো কেউ কেউ তো আত্মঘাতের পথ বেছে নেয়। এটি একটি ভেজাল কোম্পানি, যার নাম, 'ডেথ মাস্ক'। গোটা দেশে এই কোম্পানির খুব রমরমা। সরকারের সঙ্গেও খাতিরের সম্পর্ক। ক্রমে চাকরির জগতটা একটু একটু করে উন্মোচিত হতে শুরু করে চেরাবের চোখের সামনে।
তার জীবনে এলো অর্থ ও প্রেম। কিন্তু তাকে যেন ঠেলে দেওয়া হল এক সন্ত্রাসের পরিবেশে। ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও আধিপত্যের এক ভয়াবহ চেহারা দেখল চেরাব। এ এমন এক জগৎ, মানুষ যেখানে মনুষ্যত্ব ও সহমর্মিতা হারিয়ে কুটিল, জটিল, কাপুরুষ ও অমানুষ হয়ে ওঠে। চেরাব একটু একটু করে নিজের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলতে শুরু করল। অভিশপ্ত জগতে এক নির্বাসিত মানুষ হয়ে উঠল সে।
বাস্তবতাকে এই আশ্চর্য কাহিনিতে আগাগোড়া জাদু বাস্তবতার মোড়কে উপস্থাপিত করা হয়েছে। অদ্ভুত ও উদ্ভট একের পর এক ঘটনা ঘটতেই থাকে। এই জীবনে রয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। প্রেম, আবেগ বা সংবেদনশীলতা, এসবই মরীচিকা- মাত্র। অফিসের ভিতরে অজস্র আঁকাবাঁকা অন্ধকার করিডর। এখানে কাচের ঘরের আড়ালে বসকে দেখা যায় না, কিন্তু তাঁর চেয়ারকে দেখা যায়। চেরাবের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দেখা হয়ে যায় একটি কালো ঘোড়ার। অফিসের ভেতর হঠাৎ হঠাৎ শোনা যায় বেহালার সুর। রাস্তায় বেরিয়ে কুকুর ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। অফিসে ঢোকার মুখে ভেসে আসে দুর্গন্ধ। মুখোশের আড়ালে থাকা মানুষের প্রকৃত স্বরূপ নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে। চেরাবের কাছে এই অফিসটাই হয়ে ওঠে তার দেশ। গোটা দেশটা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। মানুষ এখানে প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। পক্ষাঘাতকেই তারা স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে...
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""