"আমি আলমবাজার থেকে সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলছি" আমার আঠারো বছরের আকাশবাণী এফ এম এর উপস্থাপক জীবন ছেঁকে যে সব শব্দমালা এই হৃদয়পুরে আজও আগলে বসে আছি, এটা তার মধ্যে শুধু অন্যতম। আমরা যে সময় আকাশবাণী এফ এম শুনতে শুরু করেছিলাম, তখন কলারদেরও স্বর্ণযুগ। একেকজন ফোন করতেন, আর অনুষ্ঠানটিকে অন্য মাত্রায় ভুলে দিতেন। এই তালিকায় একদম প্রথমেই আসবেন আলমবাজারের সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি নিজে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে দেখেছি, সব্যসাচীর একটি ফোন উপস্থাপকদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার কথাই বলি, অন্য যে কোনো ব্যক্তির ফোন এলে, তিনি কী বলবেন, আমি হ্যান্ড সেটে শুনে নিতাম। সব্যসাচীর ফোন এলে আমি নিশ্চিন্ত থাকতাম। কারণ, ততদিনে এই মানুষটির পড়াশুনার গভীরতা নিয়ে আমার মনে অদ্ভুত বিশ্বাস জন্মে গিয়েছে। এটা সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে আমার প্রাথমিক পরিচয় লাভ। এরপর পদ্মের পাপড়ি মেলার মতন তাঁর আরো পরিচয় লাভ করেছি।
ওঁর সংগ্রহশালায় যে পরিমাণ বই আছে, তা অনেক গ্রন্থাগারেও নেই। আমাদের চারপাশের মানুষজনের মধ্যে যেসব গুণ গুলো হারিয়ে যেতে বসেছে, সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তা পরিপূর্ণ রূপে বিরাজমান।
যখন শুনলাম, এই মানুষটি বই লিখতে চলেছেন, মনের মধ্যে অদ্ভুত আনন্দ
হ'ল। মনে হ'ল, এমন অগাধ পড়াশুনা করা মানুষ যখন তাঁর বিপুল অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন কিছু লিখতে বসবেন, তখন সেটা শুধু বই নয়, গ্রন্থ হয়ে উঠবে। সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বই পড়া এবং সংগ্রহের অভ্যাস বাঙালি জীবনে কোনো কালেই ছিলো না। এই স্বভাব একান্তই বিলাতি সাহেবদের। তাঁরা বংশানুক্রমে বই সংগ্রহ করে প্রত্যেকটি প্রাচীন বাড়িতে বিরাটকার লাইব্রেরি গড়ে তুলতেন। বাঙালি জীবনে এই বই সংগ্রহের প্রথাটি যিনি শুরু করেছিলেন, তাঁর নাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এ কথা ঠিক, ইংরেজি শিক্ষার প্রভাবে বাংলার নব্য বড়লোকেদের মধ্যে বই সংগ্রহের হিড়িক পড়েছিলো, কিন্তু সে বই ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হত, পড়ার জন্য নয়। এই সূত্রে সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বিলাতি ঘরানার অনুসারী, যাঁরা বই পড়ার জন্য আজও নেশার মতন লক্ষ লক্ষ অর্থ ব্যয় করে বই কিনে চলেন। সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেডিওতে চিঠি লিখতেন, কিম্বা কথা বলতেন, তাঁর মধ্যে পড়াশোনার ছাপ স্পষ্ট লক্ষ্য করতাম। এই কারণেই তিনি অচিরেই আমাদের আকাশবাণী কলকাতার সম্পদ হয়ে উঠেছিলেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""