দরজাটার ওপর দুমদুম করে ধাক্কা দিল প্রভাস। মুখে চোখ তার বিরক্তি। নিজের মনেই বলে, "আজ যে করেই হোক অরুণের সঙ্গে কথা বলবই। ইয়ার্কি পেয়েছে নাকি? যখন ইচ্ছে হবে ফোন করবে, ইচ্ছে হবে না গায়েব হয়ে যাবে। না না চলবে না।" চেঁচাতে থাকে, "কি রে খোল দরজাটা! খোল বলছি, নাহলে কিন্তু আমি এভাবে দরজায় ধাক্কা দিয়েই যাব। কি রে খুলবি?" দরজায় মারতে মারতে হাত ব্যথা হয়ে যাচ্ছিল ওর। আবার একটা দম নিয়ে ধাক্কা দিতে হবে তখনই খুট করে একটা শব্দ হল, ভেতর থেকে দরজাটা খুলে দিল কেউ। খোলা দরজা পেয়েই প্রায় ওকে যেন ঠেলেই রাগের চোটে ভেতরে ঢুকে এলো প্রভাস। ঢুকে একটু থমকে গেল সে।
খেয়াল করল ঘরের ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। জানলাগুলোতে ভারি পর্দা টানা। এখন মে মাসের তপ্ত শহর। লোকে দরকার ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে না। সেখানে অরুণ এই ভর দুপুরে গরমের মধ্যে সব বন্ধ করে কেন বসে কে জানে? কিন্তু জিজ্ঞেস করার আগেই প্রভাসের নাকে একটা অদ্ভুত গন্ধ এলো। অনেকদিন ঘর বন্ধ থাকলে যেমন গন্ধ বেরোয়, গন্ধটা ঠিক তেমন নয়। রান্না করা মাংস বেশিদিন বাইরে রেখে দিলে যেমন একটা বোটকা গন্ধ বেরোয়, এটা ঠিক তেমন। গা-টা কেমন যেন গুলিয়ে উঠল ওর। নাকটা রুমালে চেপে কোনোরকমে বলল, "কী রান্না করেছিলি? পচা মাংস নাকি? আর জানলা দরজা খোল, তোর মুখটা অবধি অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছি না।" অরুণ কিছু উত্তর দেয় না। অন্ধকার কেটে এগিয়ে যায় সুইসি বোর্ডের দিকে, একটা ডিম লাইট অন করে, আর প্রভাসকে একটা চেয়ারে ইশারায় বসতে বলে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""