চন্দ্রগ্রাসী' আমার প্রথম উপন্যাস। আমি মূলত বড় গল্প, উপন্যাসিকা লিখেই সিদ্ধহস্ত। গল্প লেখার ক্ষেত্রে আমার মাথার ভিতরে একটা নব্বই থেকে একশো কুড়ি মিনিটের চিত্রনাট্য চলে। আমি সেই হিসেবেই বড় গল্প বা উপন্যাসিকা লিখি। সুতরাং একটা গোটা উপন্যাস লিখতে হবে, এবং পারব, সে ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড অনিশ্চিত ছিলাম।
প্রথমেই 'বড়দার' শরণাপন্ন হই। অর্থাৎ, সুলেখক পবিত্র 'আদমখোর' ঘোষ।
মে
"উপন্যাস না লিখলে কেউ লেখক হতে পারে না। বসে যা, দেরী করিস না। ইনশাল্লাহ!" দ্রুতগতিতে ভেসে এল বড়দার বাণী। দেরী না করে অভিষেকদা'র, যাকে সমগ্র পাঠককূল অভিষেক 'ম্যাও' চট্টোপাধ্যায় হিসেবেই চেনেন, তাঁর শরণাপন্ন হলাম। "খুব ভালো কথা। লেখা শুরু কর, যেটা ভাবছিস সেটাই লেখ। শেষমেশ যদি দেখিস সেটা বড় গল্পে এসে দাঁড়াল, তাই হোক। তখন সেটাকে আবার এক্সপ্যান্ড করার কথা ভাবিস। অল দ্য বেস্ট।" স্বভাবসিদ্ধ শিক্ষকসুলভ ভাবে বুঝিয়ে বললেন তিনি।
প্রেরণা জুটলেও মনে সাহস জুটল না। তবুও 'হারি-কি-জিতি' বলে বসে গেলাম ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি মাসে। লিখতে বসেই বিপত্তি। শ্রদ্ধেয় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'মনোজদের অদ্ভূত বাড়ি'র দুঃখহরণবাবু যেরকম ল্যাজে-গোবরের ইংরাজি বলেছিল 'আ টেইল ইন কাউডাং', আমার হল সেই অবস্থা। হাজার থিওরি, হাজারটা পসিবিলিটি, কারও ল্যাজা আছে কারও মুড়ো নাই, আর উপন্যাসের সাইজ না হওয়ার আশঙ্কা। 'টেইল (Tail) ইন কাউডাং' হোক, কিন্তু 'টেল' (Tale) ইন কাউডাং হলে তো সমস্যা! গল্পটা তো ভালো করে বলতে হবে। অবশেষে আশার আলো দেখাল আমার প্রকাশক। 'বুক লুক পাবলিশিং'-এর রোহন সাহা। তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার শব্দের একটা টার্গেট দিল আমাকে। টার্গেট পেয়ে আমিও খুশি। পঁয়ত্রিশ যাবে না তিরিশেই শেষ করে দেব ভেবে পুনরায় ঝাঁপ দিলাম।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""