বিশ্বব্যাপী কমিউনিজমের ইতিহাস মানেই হিংসার ইতিহাস। সারা বিশ্বে কমিউনিজমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো হিংসা। কমিউনিজমের শাসন ব্যবস্থা বল প্রয়োগের মাধ্যমেই বৈষম্য দূর করার অজুহাতে হিংসাকে হাতিয়ার করেছে।
কমিউনিস্ট তত্ত্ব কথার মূল শিক্ষা হলো সর্বহারা শ্রেণির বিজয়, কখনই হিংসা ছাড়া সম্ভব নয়। কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থা কোনো দিন সংঘাত সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পায়নি বা খোঁজার চেষ্টা করেনি। কোনও কমিউনিস্ট শাসন ব্যবস্থাই কখনও ভিন্ন মতকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা নিয়ে মাথাই ঘামায়নি। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাস কমিউনিজমের তাত্ত্বিক সমর্থন নিয়ে কমিউনিস্টরা শুরু করেছিল এবং অনুশীলন করেছিল।
কমিউনিজম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার অনেক আগে, ১৯৭০ সালে সাই বাড়ির বর্ধমান শহরে বিরোধী পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ১৯৭৯ সালে কমিউনিস্ট সরকার এবং বাম কর্মীরা মিলে মারিচঝাঁপিতে পূর্ব বাংলার
নিম্নবর্ণের শরণার্থীদের নির্মমভাবে হত্যা করে, যা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ইহুদিদের হত্যার চেয়ে কিছু কম ছিল না। ১৯৮২ সালে রাজধানী কলকাতায় প্রকাশ্য দিবালোকে আনন্দ মাগী সন্ন্যাসীদের পুরিয়ে মারার ঘটনা ঘটায়। ১৯৯০ সালে কলকাতার নিকটবর্তী বানতলায় মহিলা সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ধর্ষণ
এবং তাদের একমাত্র পুরুষ সহযাত্রী, গাড়ির চালককে নৃশংসভাবে খুন করা হয় । বীরভূম জেলার নানুরের সূচপুরও শীর্ষস্থানীয় কমিউনিস্ট নেতাদের সক্রিয়
অংশগ্রহণে সকাল বেলায় ভূমিহীন শ্রমিকদের হত্যার সাক্ষী ছিল। ছোট আঙ্গারিয়ায় খড়ের ছাদের একটি গ্রামের বাড়িতে আটকে রেখে গ্রামবাসীদের পুড়িয়ে মারার ঘটনা আজও রহস্যের আড়ালে ঢাকা। গরীব গ্রামবাসীদের উপর নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত পরিণতি নন্দীগ্রামে দেখা গেছে যখন ইন্দোনেশিয়ার কলঙ্কিত
পুঁজিপতি সেলিম গ্রুপের জন্য দরিদ্র গ্রামবাসীদের বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছিল, গুলি চালিয়ে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে আমরা কখনও পুঁজিপতিদের জন্য হত দরিদ্র মানুষের উপর এমন নিষ্ঠুরতা দেখিনি।
বামপন্থী দুষ্টচক্র প্রকাশনা সংস্থা ও সম্পাদকীয় গোষ্ঠীর উপর এমন প্রভাব খাটিয়ে রেখেছে যে, এসব অপকর্মগুলিকে কখনো মূল স্রোতের আলোচনায় আসতেই দেওয়া হয়নি। এই বইটি পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীদের হিংসার
ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এবং সেই প্রজন্মের জন্য লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, যারা এই ভয়াবহ হিংসা দেখেনি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""