ভারতীয় ধর্মীয় মানচিত্রে অযোধ্যা এবং কুম্ভমেলা- দুটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ বিন্দু। এবং এই দুই বিষয়েই জড়িয়ে আছে দশনামী আখাড়া এবং তাঁদের সহস্রাব্দের থেকেও বেশী এক দীর্ঘ ইতিহাস। আদি শংকারাচার্য প্রচারিত "অদ্বৈতবাদ" এবং কালক্রমে তার আদর্শে গড়ে ওঠা "দশনামী" মঠ বা আখাড়ার প্রতিষ্ঠা এবং সময়ের দাবী মেনে, তার প্রচার এবং প্রসার- ভারতীয় সংস্কৃতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। আদি শংকারাচার্যের জীবন, সেই আখাড়া- সংস্কৃতির নানা দিক, বিকাশ এবং অনুষঙ্গ নিয়ে এই বইয়ের প্রথম অংশ। আবার, শতকের পর শতক ধরে চলে আসা এই মঠ বা মন্দিরগুলির অনেকগুলিই, ভক্তদের দানে প্রভৃত ভূ-সম্পত্তির এবং অর্থের মালিক হয়েছে। এই আধুনিক সময়ে আখাড়াকে ঘিরে যে দ্বন্দ্ব, আখাড়ার "গদি রক্ষার্থে" মোহান্ত এবং হতে চাওয়া মোহান্তদের মধ্যে যে সড়যন্ত্র- খুন- রক্তপাত-রাজনীতি, রাজনৈতিক দলগুলোর এই "মধুভান্ড" ঘিরে অশালীন বাহুবলী আস্ফালন, মঠগুলির মোহান্তদের দ্বারা খুল্লাম-খুল্লা অপরাধীকরণ, ক্ষেত্রবিশেষে আইনের পাঞ্জা থেকে বাঁচাতে সাধুর ভেকধারী অপরাধীদের মঠের ভিতরে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া আমাদের আদি শংকারাচার্যের ত্যাগ তিতিক্ষা- সাধনার আদর্শকে ভুলিয়ে দিয়েছে, কলুষিত করেছে আখাড়ার গুরু শিষ্যের উজ্জ্বল পরম্পরাকে। বইয়ের দ্বিতীয় অংশে রয়েছে সেই নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকারী অনেকগুলি কাহিনী যা বাস্তব এবং অনেক থ্রিলার গল্পের চেয়েও অনেক বেশী ঘটনাবহুল। এছাড়াও, বইয়ের এই অংশে রয়েছে, ১৯৪৯ সালে, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদে রাম-লালার মূর্তি স্থাপনের এক স্বল্পখ্যাত কাহিনীর নানা প্রেক্ষিত।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""