মণিশঙ্কর প্রকৃত অর্থেই প্রাকৃত জীবনের সন্ধানী। ইতিমধ্যে প্রকাশিত ছোটো গল্পগুলি ও উপন্যাসগুলিতে নাগরিক-চোখে যারা 'প্রান্তিক', তাঁদের সংগ্রামী জীবনের সজীব চিত্র ফুটে উঠতে দেখেছি। এই মানুষগুলির সঙ্গে মণিশঙ্কর নিজের জীবন মিশিয়ে রেখেছেন। তাই তাঁর সৃজন যেমন বাস্তবানুগ, তেমনি গভীর আন্তরিকতায় পূর্ণ।
'কালু ডোমের উপাখ্যান', 'লোহার', 'লাল ডুংরির কোল' উপন্যাসগুলির পর এবার 'সুজন বাউরা'।
কিন্তু কে এই সুজন? কেনই বা সে বাউরা? সুজন বাউরা একটি প্রশ্নচিহ্ন। এই সমাজের সামনে। রাজনীতির সামনে। প্রচলিত ইতিহাস চর্চার ধারার সামনে। সুজন বাউরা এক জিজ্ঞাসার নাম। সে খুঁড়ে বের করতে চায় বাঙালি জাতিটার শিকড়। আর তার সঙ্গে সমাজে অপাঙক্তেয় হয়ে থাকা বাউরী, বাগদি, ডোম, চণ্ডাল, কৈবর্তদের সম্পর্ক তথা বাঙালি-সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনে তাদেরই ভূমিকাই বা কী! অনুসন্ধান যত এগোয় ততই তার আজীবন লালিত সংস্কার, রাজনৈতিক বিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে থাকে। ভেঙে চুরমার হতে থাকে তথাকথিত মহাপুরুষদের মহত্বের অচলায়তন। প্রশ্ন আর উত্তর। উত্তরকে আবার প্রশ্ন। এই প্রশ্নোত্তরের খেলা খেলতে গিয়েই নেমে আসে চরম ট্যাজেডি। হয়ে পড়ে সিজোফ্রেনিক রোগী। তবু তার প্রশ্ন থামে না। নোট নেওয়া ডায়েরির পাতায় লিখে যায় আগামীর হাতছানি। সব থেকে আদরের ধন পুস্তক সম্ভারে জ্বলে ওঠে আগুন। সুজন বাউরা সেই বহু্যুৎসবকে ঘিরে উন্মাদের মতো নাচতে থাকে। আর জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড থেকে কোনোক্রমে বাঁচানো ডায়েরি হাতে নিয়ে মেয়ে সৃজনী শুনতে পায় এক নতুন ভোরের পদধ্বনি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""