শ্যামবাজারের বাড়িতে, ১৯৭২ সালের বর্ষায় 'নক্ষত্র'-নাট্যগোষ্ঠীর শ্যামল ঘোষ একদিন Enact পত্রিকার একটি সংখ্যা তুলে দিলেন হাতে। গিরিশ কারনাডের 'হয়বদন' নাটকটি ছাপা হয়েছে সেখানে, খুব তাড়াতাড়ি এর একটি অনুবাদ চাই শ্যামলের, চার-পাঁচদিনের মধ্যে, কেননা তাঁর দল এবার এইটেরই মহড়া শুরু করবে। প্রতিবেশী বন্ধুকে প্রতিহত করব এমন শক্তি আমার নেই: যে-নাটকটি বিষয়ে কিছুই তখনও জানি না, অত্যল্পকালের মধ্যে তার অনুবাদ ২০. দেখায় এ শ্রুতি তাই দিতেই হলো তাঁকে।
অর্থাৎ, নাটকটি যেমনই হোক, অনুবাদ আনাকে করতেই হতো। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এও সত্যি যে রচনাটি পড়বার পর, প্রায় নেশাচ্ছন্ন দুদিনে এর অনুবাদ যে সম্ভব হলো সেদিন, বন্ধুর দাবিটাই তার একমাত্র কারণ নয়। কন্নড থেকে ইংরেজি করেছেন নাট্যকার নিজেই, কাজেই সেই ইংরেজি থেকে মূলের অভিপ্রেত স্বাদ নিশ্চয় মিলবে অনেকটা। সেই স্বাদে, যা আমাকে তীব্র আকর্ষণ করল তা এর ভাষাগত স্তরপরম্পরা। মনে হলো অনুবাদের চমৎকার একটা চ্যালেঞ্জ আর আনন্দ আছে এইরকম কোনো-একটি রচনায়, যেখানে রঙ্গ থেকে প্রাত্যহিকতায় আর প্রাত্যহিকতা থেকে কাব্যময়তায় অবিরাম যাওয়া-আসা করছে ভাষা, অবলীলায়। মধ্যবর্তী কোনো-কোনো জায়গা জুড়ে কেবল কবিতা আর গান আছে বলেই যে কাব্যময়তা বলছি তা নয়, সংলাপের ভাষাই কখনো-কখনো উঠে আসছে এই কবিতার স্বরে। ব্যক্তিগতভাবে, প্রত্যক্ষ পদ্যাংশ বা গীতাংশের চেয়ে, ওই অন্তচ্ছন্দোময় সংলাপের দিকেই আমার পক্ষপাত এল বেশি।
অবশ্য ভাষার এই স্তরভেদের কথা কি একটু বাড়িয়েই ভাবলাম আমি? একটু কি চাপিয়ে দেওয়া হলো নিজস্ব-কোনো অভিরুচি? অনুবাদের পর কথাটা যে একবার মনে হয়নি তা নয়। কিন্তু দ্বিধার এই সংকোচ কেটে গেল অল্প কয়েকবছর আগে, যখন ভিন্ন আরেকটি দল এই নাটকের প্রযোজনা করছিলেন। তাঁরা, এই প্রযোজনাসূত্রে, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লেখা গিরিশের বিস্তারিত একটি চিঠি আমাকে দেখিয়েছিলেন, নাট্যকার যেখানে সংলাপের ত্রিস্তরকে তাঁদের চেতনার মধ্যে রাখবার অনুরোধ করছেন অভিনেতাদের। অভিনেতাদের নিশ্চয় বুঝিয়ে বা দরকার নেই যে এর
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""