উপন্যাসে থাকে কাহিনির বিস্তার। জীবন যেমন সহস্রমুখে বয়ে চলেছে তেমনি সংসারে আমাদের সম্পর্কগুলিও। যেমন পেটাই হতে হতে, পেটাই হতে হতে জলছাত তৈরি হয়। তেমনি আমাদের সম্পর্কগুলিও বড়ো আশ্চর্যের। যদিও এ লেখা আমার আত্মজীবনী নয় তবুও উপন্যাসের কোনও কোনও অংশে কল্পনার সঙ্গে তো বাস্তবতার মিল থাকবেই। একটি অসমাপ্ত চিত্রকল্প, এই উপন্যাসের পটভূমির পরতে পরতে মধ্যবিত্ত নাগরিক মানুষের জীবনের নিরুপায় এক পরিস্থিতির কথাই বলা হয়েছে। ঘটনা এবং প্রতিঘটনা নিয়ে নানান মুহূর্ত থেকে উঠে আসা নুড়িপাথর আগ্নেয়গিরির মতো ফুঁসে উঠেছে বাঁক বদলের মাধ্যমে। নদীর মতো মোহনায় গিয়ে মিলিত হয়েছে। এই মর-পৃথিবীতে জন্মে অনেকেই অনেক কিছু করতে আসে। ওই দেওয়ালে একটা আঁচড় দেওয়ার জন্য। তখন সব দরজা খুলে গিয়ে শুধু দিগন্তরেখা। বিশেষত এই উপন্যাসেই অবিনাশের মৃত্যু এক বিশেষ ঘটনার গুহা মুখ খুলে দেয়।
আমাদের সমাজে এ এক অবিস্মরণীয় সত্য যে, একটা মানুষের জীবনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পায় মৃত্যু।
সংসারের বৈশিষ্ট্যগুলো হল অনেক জিনিস গোপন রাখতে হয়। যদিও জানতে ঠিক পারবেই তা সে মৃত্যুর পর হলেও। অবিনাশ সুনন্দা বিল্টু মিতু অহনা-
এসব চরিত্র কাল্পনিক হলেও আসলেই কাল্পনিক নয়। এ যেন এক আয়না সকলের মুখ দেখা যায়। হয়তো মুখোশ খুলে যাচ্ছে। তবু মনে হয়, এইসব নিরুপায় মানুষেরা কোথাও না কোথাও গিয়ে সৎ।
এটাই তাদের আধার-কার্ড। এইসব চিরকাল। এটাই হল তাদের আইডেনটিটি। তাই এই উপন্যাসের কোনও ভণিতার প্রয়োজন হয় না। পড়তে পড়তে
ভীষণ এক নির্জন আলোকিত সমন্বয় অন্ধকার কাটিয়ে বহুদূরব্যাপী জগৎ-চরাচরকে উপলব্ধি করা সহজ হয়ে ওঠে। রচনার শেষ দৃশ্যের সাক্ষী থাকার জন্যে পাঠকের নিমগ্নতা লক্ষ্য মাত্রায় নিয়ে যেতে বাধ্য করবে। চুপ করে বসে থাকতে বাধ্য হবে। এটুকু হলফ করে বলা যায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""