১৯৫৬ সালের শেষদিকে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত 'ছাদ' গল্পটি দিয়ে লেখক মতি নন্দীর সাহিত্য-সফর শুরু হয়। তার কিছুদিন আগে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মারা যান। সেই সময়ে 'উল্টোরথ' পত্রিকা আয়োজিত 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি উপন্যাস প্রতিযোগিতা'য় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করেন মতি নন্দী। সেই প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছিলেন পরবর্তী সময়ের বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী ও অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাসটি ছিল 'ধুলো বালির মাটি'। এরপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক নতুন ঘরানার গল্প-উপন্যাস লিখে সমকালীন পাঠকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে ক্রীড়া দুনিয়ার মাঠ-ময়দানের গন্ধমাখা অসাধারণ সব গল্প উপন্যাস লিখে তিনি পাঠকদের এক সম্পূর্ণ নতুন দুনিয়ার সন্ধান দিয়ে গেছেন একদা। তেমনটা আর বাঙালি পাঠক পেল কই!! অনেককাল পরে নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এক সাক্ষাৎকারে বাংলা সাহিত্যে কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া ক্রীড়া-জাগতিক উপন্যাস 'ননীদা নট আউট' 'কোনি' 'স্ট্রাইকার' 'স্টপার' 'জীবন অনন্ত' ইত্যাদি লেখাগুলি নিয়ে কিছু বলতে বলা হলে, তিনি বলেন যে 'তীব্র জীবনবোধ, মানব মনের লড়াকু সত্তাকে অনুধাবন করার সহজাত ক্ষমতা ও খেলার জগৎ নিয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য মতি নন্দীর এই উপন্যাসগুলি লেখার মূল চাবিকাঠি শুধু ক্রীড়া বিষয়ক উপন্যাসই নয় মতি'র লেখা যেকোনো উপন্যাস যেমন 'সাদা খাম', 'ছোটবাবু', বা 'জীবন্ত'এ এগুলি প্রতিটিই বাংলা সাহিত্যের এক একটি চিরকালীন সম্পদ হয়ে থাকবে তার লেখার এই বৈশিষ্ট্যগুনে।'
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""