একদিন সুর জেগে উঠেছিল। বারো ঘর-এক উঠোনের ধোঁয়া ভরা বাস্তব থেকে জেগে উঠেছিলেন মোৎজার্ট-বিঠোভেন-বাখ-আবদুল করিম খাঁ-আলী আকবর। মুনলাইট সোনাটার হাত ধরে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে উঁকি দিয়েছিল কবেকার হারিয়ে যাওয়া কোমল নিষাদ। দেখা-না-দেখায় মেশা কাহিনি হাঁটতে শুরু করে স্মৃতির ট্রামলাইন ধরে। কখনও তার গায়ে এসে বসে খঞ্জনির 'তিং' শব্দ, কখনও বা এক সুবিশাল ফিলহারমনি এসে তাকে বিপুল তরঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সে তরঙ্গ যেমন গানের-সুরের, সে তরঙ্গ মানুষেরও। সেই তরঙ্গকে কলমে ধরলেন সঙ্গীত-পুরুষ। স্মৃতিকথার চেনা চৌহদ্দি ছাড়িয়ে এ লেখা স্পর্শ করল অগণিত না-বলা বাণী। সেসব বাণীর গায়ে অক্ষর হয়ে লেগে রইলেন কখনও শ্রীশ্রী গৌরসুন্দর, কখনও বা চার্লি চ্যাপলিন, ঋত্বিক ঘটক। কোথাও ছায়া ফেললেন বাবা জাহ্নবীরঞ্জন, তো কোথাও এসে পড়ল সলিল চৌধুরী, সত্যজিৎ রায় বা ঋতুপর্ণ ঘোষের সিল্যুট। ঠাকুমা চারুবালা আর কন্যা স্পন্দনা এখানে ভাগ করে নিলেন মায়াজ্যোৎস্নার আলো। এ পার বাংলা-ও পার বাংলার মাঝখানের ভাব-চরাচরে লেখক ফুটিয়ে তুললেন স্মৃতি-বিস্মৃতির থেকেও বেশি কিছু। অক্ষরকে এই গ্রন্থে সঙ্গ দিচ্ছে লেখকের আঁকা একগুচ্ছ ছবি, যারা হয়তো এই স্মৃতিকাহিনিরই পরিপূরক।