বাথে স্কুলে আঠারো যা, পুলিশে স্কুলে কত। মহারাণির শাসনে দেশে আইন আদালতের চেহারা বদলাল বটে, কিন্তু সেই আইন বলবৎ করার দায় যাঁদের হাতে গিয়ে পড়ল, সেই আইনরক্ষকদের সেকালীন চেহারা খুব জুৎসই ছিল না বলেই জানান দিচ্ছে সমসাময়িক সাহিত্য। কিন্তু, পুলিশের বিন্দু থেকে দেখলে কেমন ছিল সমাজ- এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পরের মুখে ঝাল না খেয়ে সটান পুলিশের খপ্পরে পড়াই ভালো। 'শিক্ষার নাকাব'-হীন পুলিশদ্বয়ের এই আত্মকথন বাহ্যিক চেহারায় 'অপরিশীলিত' হলেও, তার মধ্যে এমন কিছু সারপদার্থ ছিল, যা নিয়ে কম গোলযোগ হয়নি সমসময়ে। ১৮৬৯ সালে মিয়াজান দারোগার একরারনামা আর ১৮৭৫-এ মিঠঠু খানের কবুলিয়ৎ প্রকাশিত হয়। প্রথমটি আকাঁড়া আত্মকথন আর দ্বিতীয়টি কথকের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা। তারা সেকালের পুলিশের নিচুতলার কর্মী। ফলে তাদের লেখায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে সমসময়ের অপরাধ আর দেশীয় সমাজের আনাচ-কানাচ, তেমনই বেআব্রু রকমে ফুটে উঠেছে উচ্চপদে অধিষ্ঠানরত সাদা চামড়ার পুলিশ-প্রশাসনের দুর্নীতি আর নিজেদের সাধু প্রমাণের যাবতীয় চেষ্টার ছবি।
একদিক থেকে দেখলে, এই দুই আত্মকথা যেমন ইতিহাসের উপাদান, তেমনই এ দেশের পুলিশের দীর্ঘ ইতিবৃত্তে এ যেন এক অচলায়তনের সরস বর্ণনা। পড়তে বসে পাঠকই বিচার করতে পারেন, বাঘ না কি পুলিশ, কার স্পর্শ অধিক সুখকর?