একসময়ে দীর্ঘকাল বাড়িতে চুরি না হলে গেরস্তের মন নাকি আঁটুবাঁটু করত।
আর চোরেদেরও যথেষ্ট আত্মসম্মানবোধ ছিল। কলকাত্তাই মশাদের অভিযোজন থেকে দেওরের ফুলশয্যায় আড়ি পাততে বৌদির পাশবালিশের খোলে প্রবেশ অথবা 'আবোল তাবোল'-এর জীবন্ত হয়ে ওঠা কিংবা নিপাট-নিঝুম ঘুমেরও মারাত্মক হয়ে ওঠার মতো ঘটনা নিয়ে এই বই। তদুপরি রয়েছেন গন্ধপুলিশেরা, যাঁরা 'নাক ভাঙিয়ে' খান।
এখানেই শেষ নয়, রয়েছে বিয়েবাড়িতে চিংড়ির মালাইকারির সঙ্গে আমাশার ওষুধ পরিবেশন আর ভ্যালেনটাইনের সঙ্গে দেবী সরস্বতীর বিশ্রম্ভালাপ। পুজোয় জামাকাপড় নয়, নিপাট দু'পাটি দাঁত চাওয়া, ভরা এজলাসে জজসাহেবের মালয়ালি কবিতা আবৃত্তি, লিফটতুতো পরিজন, মূকাভিনয়ে প্রেম থেকে শোকের গণমান্য আয়ু নিয়ে বিশদ আলোচনার পাশাপাশি রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, রয়েছে চেনা-অচেনা-আধোচেনা আকাশবাণী। কখনও মধুর, কখনও ব্যঙ্গের মিশেলে ঈষৎ কষায় আবার কখনও বা অশ্রুসিক্ত আখ্যান এ বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে।
অবিশ্বাসীদের এখানে প্রবেশ নিষেধ। আর যাঁরা কথা-কল্পনা-বাস্তবকে একসঙ্গে জাপ্টে বেঁচে থাকতে চান, এ বই তাঁদেরই জন্য। কেন না, এই বই পড়লেই আক্কেল দাঁত কিড়মিড়য়ে উঠে জানান দেবে- 'সব সত্যি!'