কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কখনও নয়।
কিন্তু কালেভদ্রে এর ব্যতিক্রমও তো ঘটে। জীব মাত্রেই আত্মকেন্দ্রিক। অন্যের প্রতি তার দায়, কর্তব্য কিংবা বাৎসল্য আত্মস্বস্তির কারণেই।
সৃষ্টির এই শাশ্বত আর নির্মম সত্যের নখদাঁত লুকিয়ে মানুষ সমাজ গঠন করে, সম্পর্কবন্ধন তৈরি করে।
কিন্তু তার পরেও কি সৃষ্টির সেই 'আদিম অকৃত্রিমতা' কোথাও স্থগিত থেকে যায় না? মাতৃত্ব বিষয়ক ছোটো-ছোটো এই কাহিনিগুলিতে সুমাতা-কুমাতা দুই-ই আছে। কেউ যেমন তার অপত্যের জন্য নিজেকে নিংড়ে দিয়েছে, বন্ধনের মধ্যে মুক্তির স্বাদ খুঁজতে চেষ্টা করেছে-কেউ আবার নিজেকে মুক্ত করতে সদ্যোজাতকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তার অন্ত ঘটিয়েছে। এসবের মধ্যে দিয়ে মাতৃত্বকে পরাভূত করে কি নারীত্বেরই জয় হয়েছে?
সংসারের নানাবিধ প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির পরেও মাতৃসত্তা থেকে নারীসত্তায় উত্তরণের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত নিয়েই রচিত হয়েছে এই গ্রন্থের আখ্যানগুলি। যা কখনও নির্মম, কখনও বা মায়ামেদুর,
কখনও নির্লিপ্ত আবার কখনও জীবনের প্রতি আশ্লেষে আকীর্ণ।