ক্লাসরুমে কখনও ঢুকে পড়ে রক্তকরবী, কখনও বা সে আগুন নীল হয়ে ধিকি ধিকি জ্বলে জীবনের নানান কানাচে। তাকে যদি 'স্মৃতি' বলা যায়, তা হলে সেই সব রাত্রিজাগরণের সঙ্গী ছাপার আখরগুলিও তার ব্যত্যয় নয়। এভাবেই নিজের চেতনানির্মাণকে দেখেছেন লেখক। শিক্ষক হিসেবে কেমন ছিলেন শঙ্খ ঘোষ? নবারুণ ভট্টাচার্য মানেই কি নিছক ফ্যাৎ ফ্যাৎ সাঁই সাঁই? অমলেন্দু চক্রবর্তীর গল্প অথবা অমিয় দেবের প্রবন্ধের স্মৃতি শুধু ব্যক্তিসান্নিধ্য নয়, তারও ঊর্ধ্বে কিছু, সে কথা ধরা রয়েছে এই বইয়ে। সাধারণ পাঠকের কাছে যিনি গম্ভীর গুরুভার ব্যক্তিত্ব, সাহচর্যে তিনিই যেন ফুরফুরে পলাশ তুলো। মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য, শাঁওলী মিত্র থেকে অকালপ্রয়াত কবি প্রবীর দাশগুপ্ত, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য থেকে লেপচা ভাষার প্রতিনিধি লিয়ংসং তামসাং যেমন লেখকের কাছে বর্তিকা, পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পাঠ-অভিজ্ঞতায় উঠে আসা গ্রন্থ বা গ্রন্থকারেরা তেমনই লাইটহাউস। তার বাইরেও রয়েছে গান শোনা। সেখানেও 'সান্নিধ্য' শব্দটি আরও দৃঢ়সংবদ্ধ। এই সমস্ত কিছুর মধ্যে দিয়েই একজন মানুষের গড়ে ওঠা। নিজেকে চিনতে শেখা। এই বইয়ের মূল সুরটি সেখানেই। এই গ্রন্থের পাতা ওলটাতে ওলটাতে পাঠক মগ্ন হতে পারেন আত্মানুসন্ধানে, অথবা গিয়ে পড়তে পারেন একেবারেই এমন এক পরিসরে, যা চেনা-অচেনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক অসীম প্রত্নজগতে। একদিক থেকে দেখলে এই বই লেখকের স্মৃতিযাত্রা, অন্যদিক থেকে এটি পাঠকের নিজস্ব মেধাযন্ত্রে শান দেওয়ার পাথরখণ্ড, যাকে কাজে লাগাতে গেলেই ছিটকে ওঠে আলো।